বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারিতে সিআইডি তৎপর, ‘ভূতুড়ে’ স্বাক্ষরের রহস্যে শোরগোল রাজনৈতিক মহলে – এবেলা

বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারিতে সিআইডি তৎপর, ‘ভূতুড়ে’ স্বাক্ষরের রহস্যে শোরগোল রাজনৈতিক মহলে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা ‘সই কেলেঙ্কারি’ মামলা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিধানসভার প্রধান সচিবের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়ে নথিপত্র ও স্বাক্ষর যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।

বিধায়কদের বাড়িতে সিআইডি ও বাহারুলের বিস্ফোরক মন্তব্য

তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডির একটি দল ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছায়। বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনায় তৃণমূল বিধায়কদের যে তালিকা জমা পড়েছে, সেখানে বাহারুলের সই থাকলেও তিনি নিজে তা করেননি বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বিধায়ক বলেন, বিধানসভায় জমা পড়া নথিতে তাঁর অজান্তেই সই করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে সেখানে কি কোনো ‘ভূত’ সই করে দিয়ে গেল? তিনি আরও জানান, দলের নির্দেশে পদত্যাগ করতে হলেও তিনি দ্বিধা করতেন না, কিন্তু এই জালিয়াতির উৎস তাঁর অজানা।

একইভাবে চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও হানা দেয় সিআইডি। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞ (হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট) নিয়ে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সই যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চালানো হয়। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ ঘটনার সময় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় সিআইডি আধিকারিকরা ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তিনি নিজেই তদন্তকারীদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

তদন্তের পরিধি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল তৃণমূলের পরিষদীয় দলের প্রথম দিনের বৈঠকের পর, যখন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামের সপক্ষে বিধানসভায় একটি প্রাথমিক চিঠি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিধানসভার পক্ষ থেকে একটি রেজলিউশন চাওয়া হলে ৭০ জন বিধায়কের সই ও নির্দিষ্ট তারিখ সংবলিত একটি নথি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়ে। অভিযোগ ওঠে, এই তালিকার একাধিক সই ভুয়া এবং বিধায়কদের অজান্তেই তা করা হয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সিআইডি এখন শুধু বিধায়কদের সই আসল নাকি নকল তা যাচাই করছে না, বরং রেজলিউশনে উল্লেখ করা তারিখগুলির মধ্যে কোনো অসঙ্গতি বা গড়মিল রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে। এই তদন্তের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি প্রমাণিত হয় যে বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক জায়গায় নথিপত্র জালিয়াতি হয়েছে, তবে তা পরিষদীয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে। একইসঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কোনো সুগভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা উদঘাটন করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *