অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম মিলবে সরকারি অফিস ও পুরসভায়, স্পষ্ট করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই যোজনার ফর্ম প্রকাশ্যে আনার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশেষে সেই ধোঁয়াশা দূর করলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অফলাইনে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা এবং ওয়ার্ড অফিস থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া পুরকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও এই ফর্ম পৌঁছে দেবেন।
ফর্ম তোলার তাড়াহুড়ো নয়, হবে বিশেষ ক্যাম্প
মন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, ফর্ম তোলার জন্য তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই সব ফর্ম পূরণ করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করতে প্রতিটি সরকারি অফিসে বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। অনলাইন এবং অফলাইন, উভয় মাধ্যমেই ফর্ম পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পূরণ করা ফর্ম নিকটবর্তী সরকারি অফিসে জমা দেওয়া যাবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকার পরিবর্তে এই নতুন প্রকল্পে মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা রাজ্যবাসীর অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা
আবেদনের যোগ্যতা নিয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। নিয়মানুযায়ী, দেশের বৈধ নাগরিকরাই কেবল এই সুবিধা পাবেন। যাঁরা আয়কর রিটার্ন (আইটি ফাইল) দাখিল করেন কিন্তু কর দিতে হয় না, তাঁরাও এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর পাশাপাশি, যাঁরা সিএএ (CAA) এর জন্য আবেদন করেছেন কিংবা ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়েছেন, তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতাভুক্ত হবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকছে; কোনো আবেদনকারীর সন্তান যদি খারিজী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে, তবে সেই পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে প্রান্তিক স্তরের মহিলাদের কাছে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পৌঁছাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
