ইজরায়েল ইস্যুতে উত্তপ্ত পাকিস্তান, শাহবাজ ও সেনাপ্রধানকে লস্করের খুনের হুমকি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার নয়া কূটনৈতিক চাপের মাঝেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন বা তাকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আশঙ্কায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে সরাসরি খুনের হুমকি দিয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা। লস্কর নেতা সইফুল্লা কাসুরি প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যে শাসক বা ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি ইজরায়েলকে সমর্থন বা স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাকে হত্যা ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
হুমকির নেপথ্য কারণ ও আন্তর্জাতিক চাপ
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম দেশগুলিকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিয়ে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানোর পর থেকেই ইসলামাবাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হতে শুরু করে। এই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের বিবাদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই লস্করের এই হুমকি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের এই বার্তার পর পাকিস্তান সরকার ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই মূলত নিজেদের দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনীর দিকে বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিয়েছে এই জঙ্গি সংগঠন।
পাকিস্তানের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
ইজরায়েল ইস্যুতে অবশ্য ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়া পাকিস্তানের ‘মৌলিক আদর্শ’ বিরোধী। দীর্ঘ ৭৮ বছরের ইতিহাসে ইসলামাবাদ কখনও ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান বদল হবে না। এই অনড় অবস্থানের কারণে পাকিস্তানি পাসপোর্টে ইজরায়েল ভ্রমণের উপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এমন স্পষ্ট বার্তার পরও লস্কর-ই-তৈবার এই আগ্রাসী মনোভাব পাকিস্তানের জন্য দ্বিমুখী সংকট তৈরি করল। একদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আন্তর্জাতিক চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরের উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর এই প্রাণনাশের হুমকি শাহবাজ শরিফ ও সামরিক প্রশাসনের জন্য আগামী দিনে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। জঙ্গি সংগঠনগুলোর এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি সামগ্রিক শাসনব্যবস্থাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
