শ্মশানও চুরি করেছে তৃণমূল, মেমারিতে সরকারি জমি দখলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল জমানায় শ্মশানের জমি দখলের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বাগিলা মৌজার প্রায় ২.০২ একর শ্মশানের জমি বেআইনিভাবে দখল করার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং বিজেপির পক্ষ থেকে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল করা হয়েছে।
বেদখল সরকারি জমি, উঠছে দুর্নীতির পাহাড়
বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সরকারি রেকর্ডে স্পষ্টাক্ষরে শ্মশান হিসেবে নথিভুক্ত থাকা বিশাল জমিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক স্থায়ী নির্মাণ গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে। বিজেপি নেতা ভীষ্মদেব ভট্টাচার্যের দাবি, যেখানে সাধারণ মানুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা, সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল বাগান বাড়ি, নার্সিংহোম এবং এমনকি শাসকদলের পার্টি অফিসও। সরকারি খাস জমি কীভাবে এভাবে রাতারাতি হাতবদল হয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ক্ষোভের আগুন ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার জেরে মেমারি ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গিয়েছে। বিজেপির দাবি, এই জমি চুরির পেছনে এক গভীর ষড়যন্ত্র ও বড়সড় আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে। অবিলম্বে এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র রূপ ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
