পরাজয়ের স্তব্ধতা ভেঙে এবার রাজপথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ ১৫ বছর বাংলার মসনদে থাকার পর গত ৪ মে-র নির্বাচনে বিপুল আসনে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এই নজিরবিহীন ভরাডুবির পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যত স্তব্ধ ছিল ঘাসফুল শিবির। শীর্ষ নেতৃত্বের এমন নিষ্ক্রিয়তায় যখন নীচুতলার কর্মীদের মনোবল ভাঙছিল, ঠিক তখনই নীরবতা ভেঙে রাজপথে ফেরার বার্তা দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে একদিনের অবস্থান ধরনায় বসতে চলেছেন তিনি।
নেতৃত্বের নীরবতা ও কর্মীদের ক্ষোভ
নির্বাচনে বিজেপির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর তৃণমূলের অন্দরে এক ধরণের হতাশা তৈরি হয়েছিল। ভোট-পরবর্তী সময়ে দলের আক্রান্ত কর্মীদের পাশে শীর্ষ নেতৃত্বকে সেভাবে দেখা না যাওয়ায় ক্ষোভ জমছিল কর্মী মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের কর্মীদের সেই মনোবল চাঙ্গা করতেই এবার সরাসরি ময়দানে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২ জুন সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে প্রথমে শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দুপুরে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। একই দিনে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের নানুরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেবেন।
অনুমতি ঘিরে ধোঁয়াশা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই অবস্থান বিক্ষোভের জন্য ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হলেও এখনও চূড়ান্ত অনুমতি মেলেনি। এর আগে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতার তিনটি স্থানে তৃণমূলের অনুষ্ঠানের আবেদন খারিজ করেছিল পুলিশ। ফলে এবারের কর্মসূচির অনুমতি পাওয়া নিয়ে এক ধরণের রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল শুধু নিজেদের অস্তিত্বই জানান দিচ্ছে না, বরং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের ওপর প্রথম থেকেই চাপ সৃষ্টির কৌশল নিচ্ছে। এই আন্দোলনের সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপরেই আগামী দিনে রাজ্যে তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
