আবাস যোজনার টাকাতেও কাটমানির থাবা, মালদার ইংরেজবাজারে বিডিও অফিসের সামনে উপভোক্তাদের তুমুল বিক্ষোভ – এবেলা

আবাস যোজনার টাকাতেও কাটমানির থাবা, মালদার ইংরেজবাজারে বিডিও অফিসের সামনে উপভোক্তাদের তুমুল বিক্ষোভ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গরিব মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ তৈরির সরকারি অনুদানেও এবার থাবা বসাল কাটমানি সিন্ডিকেট। বাংলা আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই উপভোক্তাদের জোর করে ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে এককালীন ২০ হাজার টাকা করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। কাটমানির টাকা না দিলে ব্যাংকের পাশবুক ও অন্যান্য জরুরি নথিপত্র ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের। এই চাঞ্চল্যকর তোলাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মালদার ইংরেজবাজারে। নিজেদের হকের টাকা ফেরত পেতে এবং ওই পঞ্চায়েত সদস্যের শাস্তির দাবিতে এদিন ইংরেজবাজারের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও-র দ্বারস্থ হয়েছেন যদুপুর ১ ও ২ নম্বর ব্লকের একঝাঁক প্রতারিত উপভোক্তা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জেলা রাজনীতিতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে কাটমানি বিতর্ক।

নথিপত্র আটকে রেখে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম মেনে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য উপভোক্তাদের তিন দফায় মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা। সেই মতো ইংরেজবাজারের যদুপুর এলাকার একাধিক দরিদ্র বাসিন্দা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু উপভোক্তাদের অভিযোগ, আবেদন করার পর থেকেই তাঁদের ভোটার কার্ড, ব্যাংক পাশবুক ও অন্যান্য জরুরি নথিপত্র নিজের জিম্মায় আটকে রেখেছিলেন স্থানীয় ওই পঞ্চায়েত সদস্য। প্রথম থেকেই সমস্ত নথিপত্র আটকে রেখে উপভোক্তাদের একপ্রকার মানসিক চাপে রাখা হয়েছিল বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

ব্যাংক থেকে টাকা তুলিয়েই জুলুম

প্রতারিত গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তেই অতি সক্রিয় হয়ে ওঠেন সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্য। তড়িঘড়ি তিনি উপভোক্তাদের পাকড়াও করে ব্যাংকে নিয়ে যান এবং টাকা তোলান। অভিযোগ, টাকা তোলার সাথে সাথেই অ্যাকাউন্ট পিছু সোজা ২০ হাজার টাকা করে কাটমানি হিসেবে জোরপূর্বক নিজের পকেটে পোরেন ওই সদস্য। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, এই টাকা না দিলে ব্যাংকের পাশবুক ও অন্যান্য নথিপত্র আর কোনোদিন ফেরত দেওয়া হবে না।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত পঞ্চায়েত স্তরের একাংশের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে উপভোক্তাদের অসহায়তাকে পুঁজি করার মানসিকতাই এই দুর্নীতির প্রধান কারণ। নথিপত্র আগে থেকে আটকে রাখার ফলে উপভোক্তারা শুরু থেকেই একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনার ফলে সরকারি আবাসন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাড়ি তৈরির সরকারি অনুদান থেকে শুরুতেই ২০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হলে বাকি সামান্য টাকায় দরিদ্র উপভোক্তাদের পক্ষে ছাদ সম্পূর্ণ করা আসাম্ভব হয়ে পড়বে, যার ফলে বহু পরিবার পাকা বাড়ি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রশাসনের তরফে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য বা স্থানীয় শাসকদলের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *