‘শুষ্ক’ বর্ষার কবলে ভারত: এল নিনোর থাবায় কি খরা আসন্ন? জানাল IMD! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একদশকের সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষার কবলে ভারত, এল নিনোর প্রমাদ গোনায় উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা
টানা দুবছর প্রবল বর্ষণ ও বন্যার পর ২০২৬ সালে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ভারতের মৌসুমি বায়ু। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, চলতি বছর গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষাকাল দেখার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত ‘এল নিনো’-র সক্রিয়তা বাড়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টিপাত অনেক কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
এল নিনোর করাল ছায়া ও আশঙ্কার কারণ
আইএমডি-র সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর ঘাটতিযুক্ত বর্ষার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণত ১৬ শতাংশ থাকে। এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে সমুদ্রের জলস্তরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি প্রক্রিয়া, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনে। আইএমডি জানাচ্ছে, এল নিনোর পূর্ণ শক্তি এখনও পৌঁছায়নি, তা সত্ত্বেও বৃষ্টির ঘাটতির সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে গুজরাত থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত ভারতের ‘মনসুন কোর জোন’ বা বৃষ্টিনির্ভর কৃষিজমিগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। খরিফ ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের দিকে এল নিনো যদি চরম আকার ধারণ করে, তবে ধানসহ অন্যান্য শস্যের ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে জলসঙ্কট ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রভাবিত অঞ্চল ও পরবর্তী পরিস্থিতির পূর্বাভাস
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়া দেশের বাকি প্রায় সব অংশেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। মধ্য ভারত, দক্ষিণ উপদ্বীপীয় ভারত এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের অধিকাংশ এলাকা শুষ্ক পরিস্থিতির কবলে পড়তে পারে। তবে আশার আলো পুরোপুরি নিভে যায়নি। ১৯৫১ থেকে ২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অতীতে এল নিনো থাকা সত্ত্বেও কিছু বছরে ভারতে স্বাভাবিক বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এল নিনো ছাড়াও বর্ষার গতিপ্রকৃতি আরও বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। জুনের শেষ সপ্তাহে আইএমডি জুলাই মাসের বৃষ্টির যে বিস্তারিত পূর্বাভাস দেবে, তার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।
