স্কুলে পিরিয়ড লিভ থেকে অফিসে সমবেতন, মেয়েদের জন্য কী বড় বদল আনতে চলেছে এই রাজ্য? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কেরলমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই নারী কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষায় একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে নবগঠিত ইউডিএফ (UDF) সরকার। রাজ্যকে দেশের মধ্যে সবচেয়ে ‘মহিলা বান্ধব’ এবং প্রথম ‘অনাথ মুক্ত’ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলাই এই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি কেরলম বিধানসভায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর সরকারের এই নতুন নীতি ও রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।
সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার মূল স্তম্ভ হলো ‘মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি’ বা ঋতুস্রাবকালীন মর্যাদা প্রকল্প। এর অধীনে স্কুলছাত্রীদের জন্য প্রতি মাসে ৩ দিনের ঋতুস্রাবকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এই ছুটির কারণে ছাত্রীরা যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (উইকএন্ড) বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে সেই খামতি পূরণ করে দেওয়া হবে।
কর্মক্ষেত্রে যুগান্তকারী বদল ও সমবেতন
নারী সুরক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ভি ডি সতীশনের নেতৃত্বাধীন সরকার। অসংগঠিত ক্ষেত্রসহ সমস্ত কর্মস্থলে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ‘সমকাজে সমবেতন’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। এছাড়া ১৯৬১ সালের মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইনের পরিধি বাড়িয়ে অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলাদের জন্য ৬ মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে যে সমস্ত অফিস, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা আইটি পার্কে ৫০ শতাংশের বেশি মহিলা কর্মী রয়েছেন, সেখানে ডে-কেয়ার সিস্টেম ও ক্রেশ (শিশুদের পরিচর্যাকেন্দ্র) রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মহিলাদের যাতায়াত ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে কেরলমের প্রতিটি শহরে পর্যাপ্ত পাবলিক রেস্টরুম বা গণশৌচাগার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যাতে সহজেই পাওয়া যায়, তারও ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।
সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিগুলি কার্যকর হলে রাজ্য স্তরে নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পিরিয়ড লিভের মতো পদক্ষেপ স্কুল স্তরে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার রোধ করতে সাহায্য করবে।
মহিলাদের পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষাতেও বিশেষ নজর দিয়েছে কেরলম সরকার। জুভেনাইল জাস্টিস আইনের আওতায় ফস্টার ফ্যামিলি বা প্রতিপালক পরিবারগুলোকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং আইনি দত্তক প্রক্রিয়া জোরদার করে কেরলমকে দেশের প্রথম ‘অনাথ শিশু মুক্ত’ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী সামাজিক সংস্কার আগামী দিনে কেরলমের আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোয় এক বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
