সারভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে বাংলায় শুরু হলো বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ, বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের – এবেলা

সারভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে বাংলায় শুরু হলো বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ, বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নারীদের জরায়ু মুখের ক্যান্সার বা সারভাইক্যাল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের ৮৮০টি নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে এই টিকা প্রদান করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে মূলত ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীরা এই জীবনদায়ী প্রতিষেধক পাবে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা।

কেন জরুরি এই প্রতিষেধক

জরায়ুর নীচের অংশ বা সার্ভিক্সের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে এই জটিল রোগের সৃষ্টি হয়, যার প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস। চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ করে এইচপিভি ১৬ স্ট্রেনের কারণে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম মুখোপাধ্যায়ের মতে, সারভাইক্যাল ক্যান্সার এমন একটি রোগ যা সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই টিকা মূলত ভাইরাসের মারাত্মক স্ট্রেনগুলোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা বলয় তৈরি করে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।

চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. পার্থ নাথ জানান, অতীতে সঠিক চিকিৎসার অভাবে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বহু নারীর মৃত্যু হতো। বর্তমান আধুনিক চিকিৎসার যুগে রোগীদের আয়ু বাড়লেও, রোগটিকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে টিকাকরণের কোনো বিকল্প নেই। এই টিকা নেওয়া থাকলে জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমে যায়।

সঠিক বয়স এবং সম্ভাব্য প্রভাব

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিষেধকটি সবচেয়ে কার্যকর হয় যদি তা শারীরিক সম্পর্কের লিপ্ত হওয়ার আগেই শরীরে প্রবেশ করে। সাধারণত ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে এই টিকা নেওয়া সবচেয়ে শ্রেয়। রাজ্য সরকারের এই টিকাকরণ কর্মসূচির ফলে বাংলার একটি বড় অংশের কিশোরী অত্যন্ত কম বয়সেই এই মারণ রোগের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টিকাকরণ অভিযানের দূরগামী প্রভাব পড়তে চলেছে জনস্বাস্থ্যে। বিনামূল্যে এই ভ্যাকসিন পাওয়ার ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েরাও মারণ ক্যান্সারের হাত থেকে রেহাই পাবে। সঠিক সময়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আগামী দিনে রাজ্যে সারভাইক্যাল ক্যান্সারের গ্রাফ অনেকটাই নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে চিকিৎসা মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *