অন্নপূর্ণার ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি, মহিলাদের আশ্বস্ত করতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য সরকারের নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতেই ফর্মের দৈর্ঘ্য নিয়ে উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ পাতার এই জটিল ফর্ম কীভাবে পূরণ করা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন সাধারণ মহিলারা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মহিলাদের আশ্বস্ত করতে এগিয়ে এলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি আধিকারিকরাই সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সরাসরি সাহায্য করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে এসে মুখ্যমন্ত্রী এই জটিলতা কাটানোর বার্তা দেন। এর আগে নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যরা ফর্ম সরলীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “বিন্দুমাত্র বিচলিত হবেন না। আমাদের লোকেরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করবেন। আপনাদের সরকার নিয়ম মেনে সমস্ত কাজ করবে। সংকল্পপত্রের প্রতিটি বাক্য ও শব্দ পূরণ করবে এই সরকার।”
বিভ্রান্তির কারণ ও সরকারি তৎপরতা
গত বুধবার নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ১৩ পাতার এই দীর্ঘ ও বিস্তারিত ফর্ম হাতে পাওয়ার পর থেকেই সাধারণ মহিলাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। ফর্মের জটিলতার কারণে যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করা এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
আর্থিক অনুদান ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই ফর্ম পূরণ করে জমা দিচ্ছেন, আগামী ২ জুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু হবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণের এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ ও শহরতলীর স্বল্পশিক্ষিত মহিলাদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব করবে। একই সঙ্গে, জুন মাসের শুরুতেই সরাসরি আর্থিক অনুদান প্রদান প্রক্রিয়া চালু হলে তা রাজ্যের নারী ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
