বিচার পেতে আর বছরের পর বছর অপেক্ষা নয়, আদালতের রায়ে সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

বিচার পেতে আর বছরের পর বছর অপেক্ষা নয়, আদালতের রায়ে সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট কমাতে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট। বছরের পর বছর ধরে শুনানি শেষে রায় সংরক্ষিত রেখে দেওয়ার যে প্রবণতা বিভিন্ন হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতে দেখা যায়, তাতে রাশ টানতে সর্বোচ্চ আদালত এবার একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। বিচারপতিদের ওপর চাপানো হয়েছে ৩ মাসের ডেডলাইন, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা।

রায় ঘোষণায় কঠোর সময়সীমা ও বেঞ্চ বদলের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় সংরক্ষিত রাখলে তা সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে ঘোষণা করতে হবে। তিন মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও রায় না দেওয়া হলে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরে আনতে হবে। এরপর প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সময় দিতে পারেন। কিন্তু সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যেও রায় ঘোষণা না হলে মামলাটি ওই বেঞ্চ থেকে সরিয়ে অন্য কোনো বিচারপতির কাছে হস্তান্তরিত করা হবে। অর্থাৎ, নতুন করে শুরু হবে বিচার প্রক্রিয়া। পাশাপাশি, রায় ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত কপি আদালতের ওয়েবসাইটে আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জামিন সংক্রান্ত মামলায় নতুন স্বস্তি

ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি মাথায় রেখে জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলাগুলিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই ধরনের মামলাগুলোর শুনানি শেষ হওয়ার ঠিক পরের দিনই রায় ঘোষণা করতে হবে। শুধু তাই নয়, জামিনের নির্দেশ দ্রুত ইমেইল বা অন্যান্য মাধ্যমে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যাতে বন্দিরা অবিলম্বে মুক্তি পেতে পারেন।

দীর্ঘসূত্রতার অবসানে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ

ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের একটি মামলায় দেখা গিয়েছিল যে, শুনানি শেষ হওয়ার পরেও দুই থেকে তিন বছর রায় সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। আমজনতার আইনি অধিকার রক্ষা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় গতি ফেরাতেই মূলত এই নজিরবিহীন ডেডলাইন জারি করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি হাইকোর্টকে এই নিয়ম মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচার প্রক্রিয়ায় এই সময়ানুবর্তিতা কার্যকর হলে তা মামলার দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথকে আরও সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *