স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিরাট পদক্ষেপ, রাজ্যে ১.৩৬ কোটি পরিবারকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিরাট পদক্ষেপ, রাজ্যে ১.৩৬ কোটি পরিবারকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার এসএসকেএম হাসপাতালে একটি নতুন ১০০ বেডের ওয়ার্ডের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে এবার পুরোদমে চালু হতে চলেছে ন্যাশনাল হেলথ মিশন। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১.৩৬ কোটি পরিবারকে সরাসরি কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা যোজনার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার যে পরিকাঠামোগত রূপান্তর চাইছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি বড় অংশ। একই সাথে রাজ্যের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে এখন থেকে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ নামে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

রেফারের সমস্যা দূরীকরণ ও নতুন নিয়োগ

এসএসকেএম হাসপাতালে নতুন ১০০টি বেডের সংযোজন কলকাতার এই কেন্দ্রীয় হাসপাতালের ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমাতে বড় ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা রোগীদের প্রায়শই যে ‘রেফার’ জনিত হয়রানির শিকার হতে হতো, তা ঠেকাতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, চিকিৎসা পরিষেবা আরও দ্রুত ও মসৃণ করতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক হারে ডাক্তার, নার্স, টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সহায়তায় ২৩৫টি বিভিন্ন স্তরের হাসপাতালে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রায় পৌনে আট লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ দিয়ে একটি বড়সড় টিকাকরণ অভিযান সফলভাবে শেষ করেছে রাজ্য প্রশাসন।

বেসরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি ও উত্তরবঙ্গে এইমস

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য সুলভে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে সরকার। যে সমস্ত বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছ থেকে মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে জমি লিজ নিয়েছে, তাদের মোট শয্যার ১৫ শতাংশ গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ সংরক্ষিত রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি, কলকাতার ওপর থেকে চিকিৎসার চাপ কমাতে এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেটাতে সেখানে একটি ‘এইমস’ (AIIMS) সমগোত্রীয় আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার জন্য ইতিমিধ্যেই জমি খোঁজার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই সমস্ত পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রাজ্যের প্রান্তিক স্তরের মানুষের চিকিৎসায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *