পঞ্চাশ বছরের অন্ধকার ঘুচল মাত্র সাত দিনে, আলোর শহরে স্বপ্নপূরণ আরতি দেবীর – এবেলা

পঞ্চাশ বছরের অন্ধকার ঘুচল মাত্র সাত দিনে, আলোর শহরে স্বপ্নপূরণ আরতি দেবীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শহরের এক প্রান্তে যখন ঝলমলে আলো, ঠিক তখনই অন্য প্রান্তে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাসা বেঁধেছিল আদিম অন্ধকার। বিমানবন্দরের অতি কাছে অবস্থিত দমদমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্লোব নার্সারি এলাকা। এই এলাকাতেই দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটিয়েছে আরতি মণ্ডলের পরিবার। ল্যাম্পের আলোয় পড়াশোনা করে বড় হয়েছে নাতনি। বহুবার প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও মেলেনি বিদ্যুতের সংযোগ। শেষ বয়সে এসে ঘরের আলো দেখার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব আরতি দেবী। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে কাটল সেই দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের তৎপরতায় মাত্র সাত দিনেই আরতি দেবীর ঘরে পৌঁছাল বিদ্যুৎ।

দীর্ঘ বঞ্চনা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা

আরতি মণ্ডলের পরিবার বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন জানালেও তা আমল পায়নি পূর্ববর্তী প্রশাসনের কাছে। বিদ্যুৎহীন এই চরম কষ্টের মধ্যেই মারা গিয়েছেন আরতি দেবীর শ্বশুর-শাশুড়ি এবং স্বামী। ল্যাম্পের মৃদু আলোয় পড়াশোনা করতে হয়েছে তাঁর নাতনি বৃষ্টি মণ্ডলকে। বিমানবন্দরের মতো একটি আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর এত কাছে থেকেও একটি পরিবার কীভাবে দশকের পর দশক মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রইল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিধায়কের মতে, এই দীর্ঘ বঞ্চনা যেকোনো শাসনব্যবস্থার জন্যই চরম লজ্জাজনক।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দ্রুত বাস্তবায়ন

নির্বাচনী প্রচারের সময় উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার প্রথম এই পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পারেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। সরকার গঠনের পর বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজরে এলে তিনি বিধায়ককে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবেদন জমা পড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আরতি দেবীর বাড়িতে বিদ্যুতের লাইন পৌঁছে দেওয়া হয়।

এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত আরতি দেবী জানান, সারাজীবন মানুষের বাড়ি কাজ করে সংসার চালালেও কখনো ভাবেননি নিজের ঘরে আলো দেখতে পাবেন। জীবনের শেষ দিনগুলো অন্তত আলো-পাখার হাওয়ায় কাটবে, এটাই তাঁর বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে সঠিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা থাকলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের বুনিয়াদি সমস্যার সমাধান অত্যন্ত দ্রুত সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *