দুটো গ্যাস কানেকশন থাকলে বাদ যাবে একটি, ১ জুন থেকে দেশজুড়ে নিয়ম বদল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের আবহে ভারতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আগামী ১ জুন থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম। এখন থেকে কোনো গ্রাহকের কাছে একই সঙ্গে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) এবং এলপিজি সিলিন্ডারের সংযোগ থাকলে, তাঁকে যেকোনো একটি কানেকশন ছেড়ে দিতে হবে। মূলত রান্নার গ্যাসের অপব্যবহার রোধ এবং পরিবেশবান্ধব পিএনজি সংযোগে গতি আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এক পরিবার এক সংযোগ নীতি
নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, একই ঠিকানায় এলপিজি এবং পিএনজি উভয় সংযোগ রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের অপব্যবহার, অবৈধ মজুতদারি এবং কালোবাজারি রুখতে তেল বিপণন সংস্থাগুলো (ওএমসি) ইতিমধ্যেই বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। যেসব এলাকায় পিএনজি পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানকার গ্রাহকরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাইপলাইনের গ্যাসে স্থানান্তরিত না হলে তাঁদের এলপিজি সরবরাহ বন্ধ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। ১ জুন থেকে পিএনজি পাইপলাইনের আওতাভুক্ত এলাকার গ্রাহকরা আর নতুন করে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং বা রিফিল করতে পারবেন না। এই লক্ষ্যে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কো ম্পা নি এবং ওএমসিগুলো তাদের ডিজিটাল ডেটাবেস সম্পূর্ণরূপে একত্রিত করেছে। তবে পিএনজি সংযোগ নেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নিয়ম পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে এলপিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩৩৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। সেই তুলনায় পিএনজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ১৬.৪ মিলিয়ন। গত মার্চ মাস নাগাদ দেশজুড়ে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার নতুন পিএনজি সংযোগ স্থাপিত হলেও, প্রকৃত গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১৮ শতাংশ কম ছিল। এর প্রধান কারণ, বহু পরিবার সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এলপিজি সিলিন্ডার জমা না দিয়েই নতুন পিএনজি কানেকশন নিয়েছেন।
নতুন এই নিয়মের ফলে সিলিন্ডারের কালোবাজারি কমবে এবং প্রকৃত গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এলপিজি সংযোগ ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে। পিএনজি সংযোগ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যাঁরা এলপিজি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবেন, তাঁরা পরবর্তীতে পিএনজি সুবিধা নেই এমন কোনো এলাকায় চলে গেলে পুনরায় এলপিজি সংযোগ চালু করতে পারবেন।
পাশাপাশি সরবরাহ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে এলপিজি রিফিলের লক-ইন পিরিয়ড শহুরে ব্যবহারকারীদের জন্য ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামীণ এলাকার জন্য ৪৫ দিন করা হয়েছে। তবে পরিবার পিছু বছরে ১২টি ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার পাওয়ার নিয়মটি অপরিবর্তিত থাকছে।
