জাল জাতিগত শংসাপত্র মামলা, বনগাঁয় গ্রেফতার তৃণমূলের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ ঘোষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূলের অন্দরে ফের শংসাপত্র কেলেঙ্কারির ছায়া। ভুয়ো তফসিলি জাতিগত শংসাপত্র (এসসি সার্টিফিকেট) তৈরি এবং তা ব্যবহারের অভিযোগে শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হলেন এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। ধৃত প্রসেনজিৎ ঘোষ বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কেবল প্রসেনজিৎবাবুকেই নয়, তাঁর স্ত্রী তথা ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান উমা ঘোষকেও আটক করেছে। শিমুলতলায় তাঁদের নিজস্ব বাসভবন থেকেই এই দুজনকে ধরা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাক্তন প্রধানের বিরুদ্ধে জাল শংসাপত্রের অভিযোগ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উমা ঘোষ যখন ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিত হন, তখন আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ উঠেছে, উমা ঘোষ সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একটি ভুয়ো তফসিলি শংসাপত্র দাখিল করে সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং প্রধানের পদটি দখল করেছিলেন। এই জালিয়াতির নেপথ্যে মূল কারিগর ছিলেন তাঁর স্বামী তথা পঞ্চায়েত সমিতির প্রভাবশালী নেতা প্রসেনজিৎ ঘোষ। তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ব্যবহার করে স্ত্রীকে ওই ভুয়ো সরকারি নথি পাইয়ে দিতে সরাসরি সাহায্য করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
পঞ্চায়েতের সংরক্ষিত আসন পাইয়ে দিতে সরকারি নথি জাল করার এই ঘটনাটি সামনে আসতেই প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো স্তরের আধিকারিক বা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত আছেন কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতারির ফলে স্থানীয় পঞ্চায়েত স্তরে শাসক দলের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেল। দুর্নীতি এবং জালিয়াতির অভিযোগে সরাসরি পঞ্চায়েত সমিতির পদাধিকারী গ্রেফতার হওয়ায় বিরোধী শিবির রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে বনগাঁ এবং সংলগ্ন এলাকায় পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি ও শংসাপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
