২৫ দিন ধরে শ্বাসনালিতে আটকে আস্ত টুথব্রাশ, উত্তরপ্রদেশে দেড় বছরের শিশুর প্রাণ বাঁচাল জটিল অস্ত্রোপচার – এবেলা

২৫ দিন ধরে শ্বাসনালিতে আটকে আস্ত টুথব্রাশ, উত্তরপ্রদেশে দেড় বছরের শিশুর প্রাণ বাঁচাল জটিল অস্ত্রোপচার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকরনগর জেলায় এক অবিশ্বাস্য ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটে গেছে। মাত্র দেড় বছর বয়সী এক শিশুর শ্বাসনালি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় আড়াই ইঞ্চি লম্বা একটি টুথব্রাশ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘ ২৫ দিন ধরে ব্রাশটি ওই শিশুর শ্বাসনালিতে আটকে ছিল। এই দীর্ঘ সময় ধরে এক চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও অজানা আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটিয়েছে শিশুটি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, টুথব্রাশটি কোনোভাবে শিশুটির পেটে বা শ্বাসনালিতে চলে গেলেও প্রথম দিকে তার পরিবার বিষয়টি একেবারেই টের পায়নি। সাধারণ অসুস্থতা বা হালকা অস্বস্তি ভেবে তারা বিষয়টিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেননি। ফলে এভাবেই কেটে যায় ২৫টি দিন। তবে দিন গড়ানোর সাথে সাথে শিশুটির শারীরিক কষ্ট, ব্যথা ও অস্বস্তি মারাত্মকভাবে বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান অভিভাবকেরা।

যেভাবে ধরা পড়ল এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে চিকিৎসকদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তারা আর দেরি না করে দ্রুত বেশ কিছু জরুরি মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেন। এরপর শিশুটির শরীরে সিটি (CT) স্ক্যান করা রাতেই আসল ভয়াবহ সত্যটি উন্মোচিত হয়। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, শ্বাসনালির ভেতর আটকে রয়েছে একটি আস্ত টুথব্রাশ। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসনালিতে এমন একটি বহিরাগত বস্তু আটকে থাকায় শিশুটির ফুসফুস ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক সংক্রমণ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

জটিল অস্ত্রোপচার ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে চিকিৎসকেরা কালবিলম্ব না করে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার পর সফলভাবে শিশুটির শরীর থেকে সেই টুথব্রাশটি বের করতে সক্ষম হন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসক ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয়, সিটি স্ক্যান এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তের কারণেই এই যাত্রায় শিশুটির প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ছোট শিশুরা কৌতূহলবশত যেকোনো জিনিস মুখে দিয়ে ফেলে। তাই ঘরের ছোটখাটো দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্রও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত। সামান্য অসতর্কতা যে কতটা বড় বিপদের কারণ হতে পারে, আম্বেদকরনগরের এই ঘটনাটি তারই এক বড় প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *