পুরুষ হয়েও ৭টি অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা, মুর্শিদাবাদে পর্দাফাঁস বড়সড় জালিয়াতি চক্রের! – এবেলা

পুরুষ হয়েও ৭টি অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা, মুর্শিদাবাদে পর্দাফাঁস বড়সড় জালিয়াতি চক্রের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে মুর্শিদাবাদে এক ভয়ানক জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। কোনো মহিলা নন, বরং এক যুবকের নিজস্ব ৭টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত এই প্রকল্পের ভাতার টাকা জমা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তারিকুল রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের জোতকমল গ্রাম পঞ্চায়েতের ওসমানপুরের বাসিন্দা।

যেভাবে চলত এই জালিয়াতি

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই জালিয়াতি চক্রের কার্যপদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। অভিযুক্ত তারিকুল রহমান এলাকার বিভিন্ন মহিলার নাম ব্যবহার করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম পূরণ করতেন। কিন্তু নথিপত্রে মহিলাদের নাম থাকলেও, কৌশলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের জায়গায় নিজের ৭টি ভিন্ন অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ফলে মাসের শেষে সরকারি ভাতার টাকা সরাসরি ওই যুবকের পকেটেই চলে যেত। এর আগে একই অপরাধে মোস্তাফিজুর রহমান নামে অন্য এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই এই চক্রের অন্যতম পান্ডা তারিকুলের নাম উঠে আসে এবং শুক্রবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রশাসনের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার পর রাজ্য জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি প্রকল্পের নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমস্ত আবেদনপত্র ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাই করার চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকে স্থানীয় ব্লক এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের ওপর। এত বড় একটি জালিয়াতি কীভাবে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দিনের পর দিন চলল, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার পেছনে সরকারি দপ্তরের ভেতরের কোনো অসাধু কর্মচারীর মদত বা যোগসাজশ থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রশাসনিক স্তরে ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’ থাকার জল্পনাকে উস্কে দিচ্ছে। এই জালিয়াতির প্রভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগী মহিলারা যেমন নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনই সরকারি তহবিলের অপচয় ঘটছে। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর ও রিষড়ার মতো বিভিন্ন জেলা থেকেও পুরুষদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা যাওয়ার একই ধরনের অভিযোগ আসায় রাজ্য জুড়ে একটি সুসংগঠিত প্রতারণা চক্র সক্রিয় থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং প্রশাসনের কেউ এর সাথে যুক্ত কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *