সিআইডি হানার মুখেও আপসহীন অভিষেক, আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে ওড়ালেন সিআইডি-র তৎপরতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভার সই বিতর্কের তদন্তে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি-র আকস্মিক হানা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শনিবার দুপুরে তদন্তকারী সংস্থার পাঁচ সদস্যের একটি দল যখন তাঁর শান্তিনিকেতনের বাসভবনে পৌঁছায়, তখন অভিষেক সেখানে ছিলেন না। ভোট বিপর্যয়ের পর প্রথমবার রাস্তায় নামার ঠিক আগেই এই অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর দেখা না পাওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সুকৌশলে তদন্তকারীদের নজর এড়িয়েছেন তৃণমূল নেতা।
কুণালের বাড়িতে অভিষেক, শান্তিনিকেতনে সিআইডি
শনিবারের কর্মসূচি অনুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগে থেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সিআইডি আধিকারিকরা যখন তাঁর ‘১৮৮এ শান্তিনিকেতন’-এর ঠিকানায় কড়া নাড়েন, তখন তিনি বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। অভিষেক ঠিক কখন বাড়ি থেকে বেরোলেন বা তিনি আদৌ সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট করতে পারেনি সিআইডি। পরে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি শান্তিনিকেতনে থাকেন না এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হলে কালীঘাটের বাড়িতেই আসতে হবে।
তদন্তের নেপথ্য কারণ ও অভিষেকের কড়া অবস্থান
সূত্র মারফত জানা গেছে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠির সই নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার কারণেই এই তদন্ত। চিঠিতে থাকা কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের সত্যতা ও বিভ্রান্তি খতিয়ে দেখতেই সিআইডি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই অভিযানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন তৃণমূল নেতা। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে অভিষেক জানিয়েছেন, সিআইডি আসার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো আগাম নোটিস ছিল না।
তদন্তকারী সংস্থার এই তৎপরতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপে তিনি বিন্দুমাত্র ভীত নন। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনি লড়াই লড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নাম উল্লেখ করে তিনি সাফ জানান, ইডি কিংবা সিবিআইয়ের সামনেও তিনি কখনো মাথা নত করেননি, তাই সিআইডি-র এই হানায় দমে যাওয়ার ছেলে তিনি নন। এই ঘটনা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
