সোনারপুরে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন শীর্ষ নেতৃত্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়ার পাশাপাশি ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তড়িঘড়ি সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কালীঘাটে উপস্থিত থাকা এই দুই প্রবীণ নেতাকে বিশেষ বার্তা দিয়ে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
উত্তেজনা ও মোটরবাইকে অভিষেক
শনিবার সকাল থেকেই সোনারপুরের বিভিন্ন মোড়ে স্থানীয় মহিলাদের কাঁচা ডিম হাতে জড়ো হতে দেখা যায়। পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করলে এলাকার পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে। এই উত্তেজনার আঁচ পেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝপথে নিজের চারচাকা গাড়ি ছেড়ে আচমকা মোটরবাইকে চেপে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। কিন্তু এলাকায় প্রবেশ করতেই তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন এবং সেখানে চরম হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে তিনি নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছান এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জানান যে, ভয় দেখিয়ে তাঁকে সরানো যাবে না।
নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা এবং অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে দলের অন্দরেই তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ঘটনার সময় বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হলেও সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না এবং জেলা পুলিশ সুপার ও স্থানীয় থানাকে জানানোর পরও দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছায়নি। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ একে চরম নিরাপত্তাজনিত গাফিলতি ও উদ্বেগজনক উদাসীনতা বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যেমন নতুন করে বিতর্ক তৈরি হবে, তেমনই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।
