লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে থাবা বসিয়ে শ্রীরামপুরে শ্রীঘরে কল্যাণ-ঘনিষ্ঠ আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন হুগলির রিষড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থ সারথি গুপ্ত ওরফে পাপ্পু। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই জনপ্রতিনিধির গ্রেফতারি ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, শ্রীরামপুর থানার যে আইসি-কে কিছুদিন আগে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় খোঁচা দিয়ে ‘সুন্দরবনের সিংহম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বেই এই গ্রেফতারি সম্পন্ন হয়েছে।
যেভাবে সামনে এলো দুর্নীতি
দুর্নীতির এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে রিষড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ঊর্মিলা দেবীর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে। ওই মহিলার দাবি, তাঁর প্রাপ্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সরকারি ভাতা দীর্ঘদিন ধরে অন্য একজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর পাপ্পুর দ্বারস্থ হলেও কোনো সুরাহা পাননি। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই মহিলার প্রাপ্য টাকা বিজয় সাউ নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল। অভিযোগ, ঊর্মিলা দেবী যখন এই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে যান, তখন কাউন্সিলর পাপ্পু তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বেআইনি মধ্যস্থতা করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও রাজনৈতিক প্রভাব
ঊর্মিলা দেবীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হলে প্রথমে মূল অভিযুক্ত বিজয় সাউকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর এই চক্রে কাউন্সিলরের সরাসরি যোগসাজশ খুঁজে পায় পুলিশ। এর পরেই শনিবার রিষড়ার তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থ সারথি গুপ্তকে গ্রেফতার করে শ্রীরামপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগেও শ্রীরামপুর পুরসভার অন্য এক কাউন্সিলরের গ্রেফতারির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আইনজীবীদের নিয়ে থানায় ডেপুটেশন দিতে গিয়ে আইসি-র ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। তবে সেই আইসি-র নেতৃত্বেই এবার তাঁর আরেক ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরের গ্রেফতারি স্থানীয় রাজনীতিতে শাসকদলকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী সরকারি প্রকল্পের টাকাতেও যেভাবে শাসকদলের জনপ্রতিনিধিরা থাবা বসাচ্ছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলায় তৃণমূলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং পুলিশ-প্রশাসন বনাম জনপ্রতিনিধিদের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ভাতার টাকা আত্মসাতের এই ঘটনা এলাকার উপভোক্তাদের মনেও গভীর ক্ষোভ ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
