আরজি কর কাণ্ডে নতুন মোড়, পরিবারের ৩৮টি প্রশ্নের মুখে সিবিআই তদন্ত – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় নতুন করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের পর সিবিআইয়ের নজরে এখন নির্যাতিতার পরিবারের উত্থাপিত ৩৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও ত্রুটির তালিকা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়ায় আসাম্পূর্ণতা নিয়ে সরব হয়েছে পরিবার। এই ৩৮টি বিষয়ের মধ্যে ঘটনার দিন শেষবার কাদের সঙ্গে নির্যাতিতা ছিলেন, সেই ‘লাস্ট সিন টুগেদার’ তত্ত্বটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তের খামতি ও নতুন দিশা
ঘটনার দিন সিসিটিভি ফুটেজে বারবার বেডশিট পরিবর্তন, মৃতদেহের অবস্থানের পরিবর্তন এবং ঘটনাস্থল ঘিরে ৬২ জন ব্যক্তির অবাধ বিচরণ—এই বিষয়গুলো তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। আইনজীবীদের মতে, ঘটনাস্থলে চটি জোড়া যেভাবে পরিপাটি অবস্থায় ছিল, তা খুনের ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ অজয়কুমার গুপ্তার মতামত অনুযায়ী, এই ঘটনা একা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। এছাড়া ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টের মধ্যে অন্তত ১০টি ক্ষতচিহ্নের অমিল পাওয়া গিয়েছে, যা প্রমাণ লোপাটের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগ।
তদন্তের গতিপথ ও প্রভাব
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাস্থল পরিবর্তন এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার পেছনে প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে। টালা থানার ওসি গ্রেপ্তার হলেও, কার নির্দেশে তিনি প্রমাণ লোপাট করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশের পরেও সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়কে কেন নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। একইসঙ্গে তৃণমূল নেতা শান্তনু সেনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছে পরিবার। পুলিশের ভূমিকা এবং পূর্ববর্তী তদন্তের প্রতিটি ধাপে থাকা অসংগতিগুলো সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দলকে নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
