গিলগিট বালটিস্তানে এবার সেনার চাল, দখল রাখতে নিষিদ্ধ জঙ্গিদেরই ভোটে নামালেন আসিম মুনির! – এবেলা

গিলগিট বালটিস্তানে এবার সেনার চাল, দখল রাখতে নিষিদ্ধ জঙ্গিদেরই ভোটে নামালেন আসিম মুনির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাক শাসনে দীর্ঘদিন ধরে ত্যক্তবিরক্ত অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট বালটিস্তান। আগামী ৭ জুনের নির্বাচনে সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক জমি হারানোর চরম আশঙ্কায় ভুগছে ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবার ভয়ংকর জঙ্গিদের হাতিয়ার করল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, নির্বাচনের ফল যাতে কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়, সেজন্য ব্যাপক দমন-পীড়নের পাশাপাশি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে প্রকাশ্য রাজনীতিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের দমন ও জঙ্গিদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন

নির্বাচন বৈতরণী পার হতে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে গিলগিট বালটিস্তানের নির্বাচনী ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৯৭ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠন ‘তেহরিক ই লাব্বাইক পাকিস্তান’ (টিএলপি)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোকে ঘুরপথে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামানোর এই কৌশল পাকিস্তানের জন্য নতুন নয়। এর আগেও কুখ্যাত লস্কর ই তইবাকে ‘মিল্লি মুসলিম লিগ’ নাম দিয়ে ভোটের ময়দানে নামানো হয়েছিল। এবারও ঠিক একই পন্থায় টিএলপি-কে ব্যবহার করছে পাক সেনা। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই)-এর ওপর নেমে এসেছে চরম আঘাত। এই দলের প্রায় সব শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

পুতুল প্রার্থী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব

অঞ্চলটিতে নিজেদের একাধিপত্য ধরে রাখতে বিরোধী শূন্য মাঠ তৈরির পাশাপাশি এক অভিনব কৌশল নিয়েছে সেনাবাহিনী। এবারের নির্বাচনে মোট ৪০৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭২ জনই নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই নির্দল প্রার্থীদের সিংহভাগই মূলত পাকিস্তান সরকারের হাতের পুতুল, যাদের পেছনে রয়েছে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর পূর্ণ সমর্থন।

দীর্ঘদিন ধরে গিলগিট বালটিস্তানের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো ইসলামাবাদের বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। অতীতে একাধিকবার সেখানে গণবিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসিম মুনিরের এই জঙ্গি তোষণ নীতি ও জোরপূর্বক নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ক্ষোভের আগুনকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। একটি স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত অঞ্চলে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীদের এভাবে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার ফলে আগামী দিনে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *