অভিষেকের ওপর হামলা, ইন্ডিয়া জোটের নতুন ‘সঞ্জীবনী’ কি মমতা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অভিষেকের ওপর হামলা, ইন্ডিয়া জোটের ঐক্য ফিরল রাজপথে!
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। শনিবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি যেন বিভক্ত ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের নতুন করে এক কাতারে নিয়ে এল। সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয় ও দলীয় মতপার্থক্যের কারণে যে জোটটি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল, অভিষেককে ঘিরে সেই জোটের শীর্ষ নেতারা বিজেপি বিরোধী অবস্থানে ফের ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের কড়া বার্তা
হামলার ঘটনার পরপরই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরব হয়েছেন। রাহুল গান্ধী এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন, অন্যদিকে খাড়গে সরাসরি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অভিষেককে পর্যাপ্ত সুরক্ষা না দেওয়ার জন্য বিজেপি শাসিত ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। অখিলেশ যাদব একে ‘ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মূলত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নেতার ওপর এই আক্রমণ ইন্ডিয়া জোটের সদস্যদের মধ্যে এক প্রকার সংহতি তৈরি করেছে।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান ও ইন্ডিয়া ব্লকের প্রতি তাঁর নতুন করে আগ্রহ জাতীয় রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃণমূলের দূরত্ব থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। যদিও তৃণমূল ও কংগ্রেসের স্থানীয় স্তরের মতভেদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি, বিশেষ করে প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের একাংশের মন্তব্যে তা স্পষ্ট। তবুও জাতীয় স্তরে এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলার প্রভাব আসন্ন দিনগুলোতে ভারতের বিরোধী রাজনীতির মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
