দেশের ধনীতম মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শিবকুমার! ১৫ বছরে কত বাড়লো সম্পত্তির পরিমাণ? – এবেলা

দেশের ধনীতম মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শিবকুমার! ১৫ বছরে কত বাড়লো সম্পত্তির পরিমাণ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন কংগ্রেস নেতা ডিকে শিবকুমার। আগামী বুধবার তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। তবে কুর্সিতে বসার আগেই দেশজুড়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে এই নেতার পাহাড়প্রমাণ সম্পত্তি নিয়ে। শপথ নেওয়ার পর শিবকুমারই হতে চলেছেন ভারতের সবচেয়ে ধনী মুখ্যমন্ত্রী। গত ১৫ বছরে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের (এডিআর) সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ধনীতম বিধায়কদের তালিকায় সামগ্রিকভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন শিবকুমার। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। দেশের আর কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাতে এই বিপুল অঙ্কের সম্পদ নেই। এই তালিকায় ৯৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। আর সদ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থলপতি বিজয় ৬৪৮ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে রয়েছেন তৃতীয় স্থানে।

সম্পত্তি বৃদ্ধির কারণ ও উৎস

নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যাচ্ছে, গত ১৫ বছরে ডিকে শিবকুমারের সম্পত্তি সাড়ে ৭৫ কোটি টাকা থেকে লাফিয়ে ১ হাজার ৪১৩ কোটিতে পৌঁছেছে। এই বিপুল সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে মূলত কর্নাটকের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার রমরমা ও জমির দাম বৃদ্ধিকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্নাটকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছাড়াও দেশের রাজধানী দিল্লিতে শিবকুমারের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমিও। তবে এই বিপুল সম্পত্তির বিষয়ে হবু মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তিনি মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি থেকেই ধনী হয়ে উঠেছেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

জাতীয় রাজনীতিতে শিবকুমারের এই বিশাল বিত্তবৈভব এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। ভারতের রাজ্যভিত্তিক বিধায়কদের সম্পত্তির নিরিখে কর্নাটক এমনিতেই শীর্ষে রয়েছে, যেখানে সেরাজ্যের ২২৩ জন বিধায়কের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। শিবকুমারের মতো একজন শিল্পপতি ও ধনকুবের নেতার হাতে শাসনভার যাওয়ায় কর্নাটকের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নে এর বিশেষ প্রভাব পড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশের মধ্যে জনপ্রতিনিধিদের এই বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও কৌতূহল তৈরি হওয়াও স্বাভাবিক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *