দিল্লিতে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল ৫ তলা বাড়ি, প্রাণ হারালেন ৯ জন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লির মেহরৌলি এলাকায় একটি পাঁচতলা পুরনো বাড়ি আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র এলাকা ধুলোর আস্তরণে ঢেকে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
তীব্র ক্ষোভ ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মেহরৌলি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়িটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছিল না। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই আজ এই ভয়ানক পরিণতি দেখতে হলো বলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দাবি করেছেন। এমনকি প্রশাসনের আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে হাত লাগান এবং তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। নিখোঁজদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, পরিবারের সদস্যদের খোঁজ পেতে তাঁদের রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে এবং প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর মিলছে না।
দুর্ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, পুরনো ওই ৫ তলা ভবনটি ভেঙে পড়ার পর তার একাংশ পাশের একটি কাঠামোর ওপর গিয়ে পড়ে। সেখানে মূলত বিদেশে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ুয়াদের একটি খাবারঘর (মেস) পরিচালিত হতো। ফলে একাধিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আকস্মিকভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা মনে হলেও অপরিকল্পিত ও দুর্বল নির্মাণ কাঠামোই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর দিল্লির বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে থাকা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। একই সাথে প্রশাসনের নজরদারি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা আগামীতে বেআইনি আবাসন বিরোধী অভিযানকে আরও জোরদার করতে বাধ্য করতে পারে।
বর্তমানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, দমকল বিভাগ এবং দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে মেহরৌলিতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
