বিশ্ব বাজারে মন্দার জের, ১ জুন থেকে জ্বালানি রপ্তানিতে শুল্ক কমাল কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেট্রল, ডিজেল এবং অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) রপ্তানির উপর আরোপিত বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (SAED) কমানোর বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। শনিবার সরকারের তরফে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এই সংশোধিত শুল্কহার আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হতে চলেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হওয়া পেট্রল ও ডিজেলের বর্তমান আবগারি শুল্কে কোনও প্রভাব পড়বে না।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রল রপ্তানির উপর বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক লিটার প্রতি ৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১.৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে ডিজেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও, যেখানে শুল্কের হার লিটার প্রতি ১৬.৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৩.৫ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিমান জ্বালানি বা ATF রপ্তানির উপর শুল্কের বোঝা একধাক্কায় লিটার প্রতি ১৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৯.৫ টাকা করা হয়েছে। পরবর্তী পাক্ষিক বা ১৫ দিনের পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।
শুল্ক হ্রাসের মূল কারণ
কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রল, ডিজেল এবং ATF-এর গড় দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই প্রতি দু’সপ্তাহ অন্তর এই শুল্ক পর্যালোচনা করা হয়। গত মার্চ মাসে পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া তীব্র ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। সেই সময় দেশের বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং ঢালাও রপ্তানি নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক এবং ‘রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস’ চাপানো হয়েছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী ও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার কারণেই রপ্তানির উপর শুল্কের বোঝা কমানোর এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্র একদিকে যেমন দেশের বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগান বজায় রাখতে সচেষ্ট, ঠিক তেমনই অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের অনুকূল পরিস্থিতির সুবিধা নিয়ে দেশীয় রিফাইনারি বা তেল শোধনাগারগুলিকে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগও করে দিতে চাইছে। শুল্ক কমার ফলে দেশীয় তেল শোধনাগার সংস্থাগুলি বিশ্ব বাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করতে পারবে, যা তাদের ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে করের হার অপরিবর্তিত থাকায় সাধারণ উপভোক্তাদের জন্য জ্বালানির দামে সরাসরি কোনও বদল আসছে না।
