দুঃসময়ে পাশে শুধু প্রবীণরাই, তীব্র জনরোষের মুখে কি রাজনৈতিক শিক্ষা নিলেন অভিষেক – এবেলা

দুঃসময়ে পাশে শুধু প্রবীণরাই, তীব্র জনরোষের মুখে কি রাজনৈতিক শিক্ষা নিলেন অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর দলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক মন্থন। ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভের পর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নীতিগত বিভেদ এখন পুরোপুরি প্রকাশ্য। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবর্তিত ‘কর্পোরেট রাজনীতি’ এবং নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বের জেরে দল যখন কার্যত বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত শনিবার দীর্ঘ ২৬ দিন পর প্রথমবার জনসমক্ষে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মারাত্মক জনরোষের শিকার হন। এই চরম সংকটের মুহূর্তে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দলের সেই প্রবীণ নেতারাই, যাঁদের একসময় গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছিল।

কর্পোরেট সংস্কৃতির ধাক্কা ও ভরাডুবি

তৃণমূলের অন্দরের এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক সিদ্ধান্ত এবং ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা ঐতিহ্যবাহী ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলনভিত্তিক রাজনীতি থেকে সরে এসে দলে এক ধরনের কর্পোরেট সংস্কৃতির আমদানি করেছিলেন অভিষেক। প্রবীণদের পরামর্শ উপেক্ষা করে আইপ্যাকের ফর্মুলা অনুযায়ী প্রার্থী বাছাইয়ের খেসারত দলকে দিতে হয়েছে ছাব্বিশের নির্বাচনে। অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের টিকিট না দিয়ে নবীনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, তা নির্বাচনের ফলেই প্রমাণিত। দলের জয়ী ৮০ জন প্রার্থীর সিংহভাগই পুরনো এবং অভিজ্ঞ মুখ।

সংকটে উধাও নবীনরা, রক্ষাকর্তা প্রবীণরাই

জনতার হাতে অভিষেক আক্রান্ত হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তাঁর তথাকথিত ‘নবীন ব্রিগেডের’ অনুপস্থিতি। শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত অভিষেক ঘনিষ্ঠ কোনো তরুণ নেতাকে তাঁর পাশে কিংবা রাজপথে প্রতিবাদে দেখা যায়নি। উল্টোদিকে, অসুস্থ ও আক্রান্ত অভিষেকের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রবীণ নেতারাই। দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেরিয়েছেন। ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন থেকে শুরু করে মদন মিত্রের মতো নেতারা অভিষেকের খোঁজ নিতে এবং তাঁর মাথায় আশীর্বাদী হাত রাখতে এগিয়ে এসেছেন।

এই পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে তৃণমূলের অন্দরে আইপ্যাক বা কর্পোরেট নির্ভর রাজনীতির অবসান ঘটে পুনরায় মাঠপর্যায়ের প্রবীণ নেতাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। প্রবীণদের এই ভূমিকা ৩৮ বছর বয়সী অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও চিন্তাধারায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *