ভারতে নাশকতার ছক বানচাল, ক্রিপ্টোর মাধ্যমে আসছিল পাকিস্তানি টাকা! – এবেলা

ভারতে নাশকতার ছক বানচাল, ক্রিপ্টোর মাধ্যমে আসছিল পাকিস্তানি টাকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের মাটিতে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর জন্য একটি গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে প্রথাগত আর্থিক লেনদেনের রাস্তা ছেড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এই চক্রে বিপুল অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছিল।

আন্ডারওয়ার্ল্ড ও বিদেশি হ্যান্ডলারের যোগসূত্র

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় অপরাধী এবং বিদেশে বসে থাকা হ্যান্ডলারদের নিয়ে এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল। মহারাষ্ট্রের মুম্বরা এলাকা ছিল এই চক্রের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখান থেকে কুখ্যাত দাউদ ইব্রাহিমের আন্ডারওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নতুন সদস্য নিয়োগের কাজ চলত। নেপালের নাগরিক লামা আং কামি এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ব্যাংককের একটি জেলে বন্দি থাকার সময় করাচির কুখ্যাত হ্যান্ডলার মুন্না ঝিংগাডার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তিনিই বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ভারতের অপারেটিভদের যোগাযোগ করিয়ে দেন।

তদন্তে ক্রিপ্টো নেটওয়ার্কের খোঁজ

এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা এবং জনবহুল এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালিয়ে আইএসআইয়ের প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করা। ধরা পড়ার প্রায় দু’মাস আগে থেকেই এই পরিকল্পনার সূত্রপাত হয়। আর্থিক লেনদেনের জন্য দিল্লির করোল বাগ-সহ একাধিক এলাকায় সক্রিয় কিছু সন্দেহভাজন ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্কের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ১৪ মে পুনে থেকে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বিজয় ওরফে ‘শুটার’-কে গ্রেফতারের পর এই চক্রের জাল সামনে আসে। এরপর ঝাড়খণ্ড, মুম্বই এবং পাঞ্জাব থেকে একাধিক অভিযুক্ত ধরা পড়ে। সর্বশেষ ৩০ মে দিল্লির মেহরাউলি-বদরপুর রোডে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করা হয়। এই দেশব্যাপী নেটওয়ার্কের অর্থের উৎস এবং বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *