চরম গরমে বিদ্যুতের বিল বাড়ছে ১০ শতাংশ, নাভিশ্বাস আমজনতার – এবেলা

চরম গরমে বিদ্যুতের বিল বাড়ছে ১০ শতাংশ, নাভিশ্বাস আমজনতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রখর রোদ, তীব্র দাবদাহ আর লোডশেডিংয়ের জেরে যখন ত্রাহি ত্রাহি রব উত্তরপ্রদেশে, ঠিক তখনই আমজনতার পকেটে বড়সড় কোপ মারল যোগীরাজ্যের বিদ্যুৎ দফতর। আগামী জুন মাস থেকেই উত্তরপ্রদেশের সমস্ত গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ বাড়তে চলেছে। লখনউ থেকে নয়ডা, চরম গরমে এমনিতেই যখন এসি ও কুলার চালিয়ে বিলের বহর দেখে মানুষের হাত-পা কাঁপার জোগাড়, তখন এই নতুন ঘোষণায় মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হল।

উত্তরপ্রদেশ পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড (UPPCL) সরকারিভাবে জানিয়েছে, আগামী জুন মাসের বিদ্যুতের বিলে ১০ শতাংশ ‘ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার পারচেজ অ্যাডজাস্টমেন্ট সারচার্জ’ (FPPAS) চাপানো হচ্ছে। গত ২৯ মে জারি করা এক নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহণের ক্ষেত্রে যে অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল, তা উসুল করতেই জুনের বিলে এই সারচার্জ যোগ করা হবে। সাধারণ মানুষ থেকে বাণিজ্যিক, সব ধরনের গ্রাহককেই এই বাড়তি বোঝা বইতে হবে।

চরম আবহাওয়া ও পরিকাঠামোর সংকট

এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের একটা বড় অংশ তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে। একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পার করে গিয়েছে। এই চরম আবহাওয়ায় ঘর ঠান্ডা রাখতে বাড়ি, অফিস কিংবা কারখানায় কুলিং অ্যাপ্লায়েন্সের ব্যবহার আকাশছোঁয়া। ফলে রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদাও নজিরবিহীনভাবে এক লাফে প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বেড়ে গিয়েছে।

চাহিদার এই বিপুল জোয়ার সামাল দিতে গিয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো কার্যত খাবি খাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের বহু জেলাতেই এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ কর্তারা মেনে নিয়েছেন, বিগত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ পরিবহণ ক্ষমতা বাড়ানো হলেও, গ্রাহকদের এই রকেট গতির চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিল বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব

বিদ্যুৎ পর্ষদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির (কয়লা ও গ্যাস) দামের ওঠানামা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চড়া দামে কেনার কারণেই এই বাড়তি খরচ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (UPERC)-এর তৈরি গাইডলাইন মেনেই ডিস্ট্রিবিউশন কো ম্পা নিগুলির এই লোকসান মেটাতে গ্রাহকদের ওপর সারচার্জ চাপানো হচ্ছে।

তবে কারণ যাই হোক না কেন, একদিকে বিদ্যুতের অভাবে ঘেমেনেয়ে একসা হওয়া আর অন্যদিকে পকেট খালি হওয়া, এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে উত্তরপ্রদেশের আমজনতার এখন বেহাল দশা। জুন মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *