সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলা, অমিত শাহের জবাবদিহি চেয়ে সরব ডেরেক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকের বাড়ি যাওয়ার পথে দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ঘটা এই অনভিপ্রেত ঘটনার জেরে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো জাতীয় স্তরের শীর্ষ নেতারাও সুর চড়িয়েছেন।
নিরাপত্তা প্রত্যাহার ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ উগরে দেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি দাবি করেছেন। ডেরেকের অভিযোগ, ভোটগণনার দিনই রহস্যজনকভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের লোকসভা নেতার নিরাপত্তা কেন এমন স্পর্শকাতর সময়ে সরিয়ে নেওয়া হলো এবং হামলার সময় পুলিশ প্রশাসন কোথায় ছিল, তা নিয়ে সরব হয়েছেন এই তৃণমূল সাংসদ।
সোনারপুরের উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সংঘাত
শনিবার সোনারপুর এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে জুতো, ডিম ও ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তৃণমূল নেতার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাঁকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের চেষ্টাও করা হয়। বিক্ষোভকারীরা এই সময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর বানচাল করতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অখিলেশ যাদব এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
হামলার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং দলগত বিরোধের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যকার সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে, জাতীয় স্তরের বিরোধী জোটের নেতারা এই ইস্যুতে একজোট হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়বে। দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতার নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলাজনিত এই ত্রুটি আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতিতেও বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিতে চলেছে।
