মেসি-কাণ্ডে এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর, ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারির বিস্ফোরক অভিযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসির ‘গোট ট্যুর’ ইভেন্টকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বরের বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে এক বিরাট মোড় এসেছে। মেগা ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই এফআইআর-এ টিকিট কালোবাজারি থেকে শুরু করে প্রভাব খাটানো এবং নিরাপত্তায় গাফিলতির মতো একাধিক গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে টিকিট কেলেঙ্কারি ও নিরাপত্তা ভঙ্গ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ই মে বিধাননগর কমিশনারেটে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, ওই মেগা ইভেন্টের প্রায় ২২ হাজার টিকিট দেদার কালোবাজারি করা হয়েছে, যার পেছনে হাত রয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর। শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও গা জোয়ারি করে অনুমতি ছাড়াই মাঠে নেমে মেসিকে ছেঁকে ধরা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ইভেন্টের নিরাপত্তায় বড় ধরনের গাফিলতি তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে। এই ঘটনায় জুঁই বিশ্বাসের নাম জড়িয়েও একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মূল উদ্যোক্তা। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে টিকিটে কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণার মতো অ-জামিনযোগ্য ধারা রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য আইনি জলঘোলা
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই নিশীথ প্রামাণিক মেসি-কাণ্ডের ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে এই এফআইআর অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ এবং এর ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পুলিশি তৎপরতা শুরু হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ব্যবসায়ী শতদ্রু দত্ত। থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর-এর কপি পোস্ট করে তিনি ‘সত্যমেব জয়তে’ লেখার পাশাপাশি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে প্রকাশ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মামলার ধারা অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় খুব শীঘ্রই প্রাক্তন মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিধাননগর কমিশনারেটে তলব করা হতে পারে, যা আগামী দিনে এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।
