‘ম্যান মেড বন্যা’ অভিযোগ অতীত, এবার ডিভিসির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই বিপর্যয় রুখবে রাজ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা মানেই এক বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে বন্যার আশঙ্কা। তবে দীর্ঘদিনের চেনা এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তরজায় এবার বড়সড় বদল আসতে চলেছে। প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের আমলের ‘ম্যান মেড বন্যা’-র অভিযোগকে অতীত ঘোষণা করে প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড ও দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (DVC) সঙ্গে একযোগে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার আর দোষারোপের রাজনীতি নয়, বরং ডিভিসির সঙ্গে প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রেখেই রাজ্যে বর্ষাকালীন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।
সমন্বয়ের নতুন দিশা
বিগত বছরগুলোতে বর্ষা এলেই রাজ্য ও ডিভিসির মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হতো। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করতেন, রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছেড়ে বাংলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ডোবানো হচ্ছে। এমনকি ডিভিসির বিরুদ্ধে ড্রেজিং না করার অভিযোগ তুলে ডিভিসির বাঁধের সামনে আরেকটি পাল্টা বাঁধ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান বিজেপি সরকার সেই সংঘাতের পথ থেকে সরে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতে, পূর্ববর্তী সরকার ডিভিসিকে মিথ্যে দোষারোপ করেছিল। নতুন সরকার সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চায়।
বন্যাপ্রবণ জেলাগুলির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবছরই অতিবৃষ্টি এবং প্রতিবেশী রাজ্য থেকে নেমে আসা জলে প্লাবিত হয় একাধিক জেলা। দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং হুগলি জেলা মূলত দামোদর, রূপনারায়ণ ও কংসাবতী নদীর উপচে পড়া জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের তিস্তা, তোর্ষা ও মহানন্দার জেরে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও মালদার মতো জেলাগুলি তীব্র বন্যার মুখে পড়ে।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিভিসির সঙ্গে এই নতুন সমন্বয় নীতির ফলে জল ছাড়ার পরিমাণ ও সময় আগে থেকে নিখুঁতভাবে জানা সম্ভব হবে। এর ফলে প্লাবনপ্রবণ জেলাগুলিতে আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা মিলবে। তবে জল ছাড়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নদীগুলির নাব্যতা বৃদ্ধির মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান এই যৌথ প্রয়াসের মাধ্যমে কতটা সফলভাবে করা যায়, আসন্ন বর্ষায় সেটাই হবে বর্তমান রাজ্য সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
