সোনা পরিষ্কারের নামে অভিনব প্রতারণা, দুর্গাপুরে গৃহিণীর লক্ষ লক্ষ টাকার অলঙ্কার লুট! – এবেলা

সোনা পরিষ্কারের নামে অভিনব প্রতারণা, দুর্গাপুরে গৃহিণীর লক্ষ লক্ষ টাকার অলঙ্কার লুট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শিল্পশহর দুর্গাপুরের এক জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। সোনা ও তামার বাসন চকচকে করে দেওয়ার টোপ দিয়ে এক গৃহবধূর লক্ষ লক্ষ টাকার সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিল দুই প্রতারক। দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের মাতঙ্গিনী হাজরা বিথি এলাকার এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ঘটনার নেপথ্যে কোনও বড়সড় আন্তঃরাজ্য চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ।

বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অভিনব ফাঁদ

শনিবার সকালে কবিতা চৌধুরী নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার বাড়িতে হাজির হয় দুই অপরিচিত ব্যক্তি। নিজেদের আহমেদাবাদের একটি সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে তারা দাবি করে, তাদের কাছে থাকা একটি বিশেষ পাউডার দিয়ে তামা ও সোনার অলঙ্কার নিমেষেই নতুনের মতো ঝকঝকে করে দেওয়া সম্ভব। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে প্রথমে তারা বাড়ির কয়েকটি তামার বাসন পরিষ্কার করে দেখায়। বাসনগুলি মুহূর্তে উজ্জ্বল হয়ে ওঠায় ওই ব্যক্তিদের ওপর আস্থা তৈরি হয় গৃহকর্ত্রীর। এরপরই আসল রূপ ধারণ করে প্রতারকরা।

সোনার অলঙ্কারও একইভাবে নতুনের মতো করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় তারা। প্রথমে দ্বিধা করলেও, তাদের জোরাজুরিতে শেষ পর্যন্ত নিজের গলার চেন ও সোনার বালা খুলে দেন কবিতাদেবী। অলঙ্কারগুলি একটি পাত্রে রেখে পরিষ্কার করার নাম করে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে বলে ওই দুই ব্যক্তি। সেই সুযোগে আসল সোনার গয়না হাতিয়ে, পাত্রে নকল গয়না রেখে চম্পট দেয় তারা। কিছুক্ষণ পর এসে গৃহবধূ দেখেন যে তাঁর আসল গয়না গায়েব এবং প্রতারকরা নিখোঁজ।

তদন্তে পুলিশ ও সম্ভাব্য চক্রের সন্ধান

জনবহুল ও অভিজাত এলাকায় এই ধরণের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পিছনে সুসংগঠিত কোনও চক্র কাজ করছে যারা দীর্ঘদিন ধরে রেকি করে এই ধরণের অপরাধ ঘটাচ্ছে। বাইরের রাজ্যের কোনও পেশাদার প্রতারক দল এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিযোগ পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। প্রতারিত মহিলার বয়ানের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শহরের অন্যান্য এলাকাতেও এই চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *