মণিপুরে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারালেন হুগলির লরি চালক, অন্ধকার ভবিষ্যতে দিশেহারা পরিবার! – এবেলা

মণিপুরে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারালেন হুগলির লরি চালক, অন্ধকার ভবিষ্যতে দিশেহারা পরিবার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মণিপুরের অশান্ত পরিস্থিতির বলি হলেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক লরি চালক। শুক্রবার মণিপুরের উখরুল জেলার টিএম কাসোম এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের এলোপাথাড়ি গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যান ত্রিবেনীর বাসিন্দা নীতীশ দাস (৬৩)। বিএসএফ, সিআরপিএফ ও পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী যখন ১৫ থেকে ২০টি পণ্যবাহী ট্রাকের একটি কনভয় নিয়ে উখরুলের দিকে যাচ্ছিল, তখনই আচমকা এই হামলা চালায় জঙ্গিরা। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর হুগলির ত্রিবেনী ২ নম্বর বাসুদেবপুর উমা পল্লীতে পৌঁছানো মাত্রই গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উত্তেজনা বৃদ্ধি ও নাশকতার ছক

মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচাঁদ সিং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি ‘কাপুরুষোচিত কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ সচল রাখা লরি চালকদের ওপর এই ধরণের কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে আসলে রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার সরকারি উদ্যোগকে ব্যাহত করতে চাইছে উগ্রপন্থীরা। একইসঙ্গে এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো উপত্যকায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করা।

উপার্জনহীন পরিবারে চরম বিপর্যয়

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর ও আসামে লরি চালাতেন নীতীশ বাবু। ২০২৪ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে প্যানক্রিয়াটাইটিসে আক্রান্ত অসুস্থ ছেলে এবং মেয়ের একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনিই। লরি চালিয়ে উপার্জিত অর্থেই চলত ছেলের ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও সংসারের খরচ। এই একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা। কীভাবে আগামী দিনে সংসার চলবে এবং অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা কীভাবে বজায় থাকবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে সরকারের আর্থিক সাহায্যের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে অসহায় পরিবারটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *