পাঁচ মন্ত্রীর কাঁধ থেকে নামছে বোঝা, আজই কি রূপরেখা পাচ্ছে শুভেন্দুর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এতদিন পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি রাজ্য মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ মাত্র ৫ জন মন্ত্রীকে নিয়ে এতদিন চলছিল প্রশাসনিক কাজকর্ম। অবশেষে সেই দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে। বিজেপি দলীয় সূত্রে খবর, আজ সোমবারই রাজ্যে হতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার বহুল প্রতীক্ষিত সম্প্রসারণ। এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণে একঝাঁক নতুন এবং হেভিওয়েট মুখকে ক্যাবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
শিক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বড় চমকের সম্ভাবনা
বিজেপির বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, নতুন এই মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু বড় চমক থাকতে পারে। রাসবিহারীর প্রবীণ বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত পেতে পারেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো দপ্তরের দায়িত্ব। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই তাঁকে শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। ফলে তাঁর রাজ্যের পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। অন্যদিকে, মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ী হেভিওয়েট নেতা তথা বর্তমান বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তাপস রায়কেও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়া এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব পরিচালনার পর এবার তাঁকে রাজ্য মন্ত্রিসভার মূল স্রোতে আনা হচ্ছে বলে খবর। এই তালিকায় আরও স্থান পেতে পারেন শঙ্কর ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অশোক দিণ্ডা, চন্দনা বাউড়ি ও শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের মত পরিচিত বিধায়করা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ জন নতুন মুখ স্থান পেতে পারেন এই তালিকায়।
প্রশাসনিক গতি ও সম্ভাব্য রদবদল
বর্তমানে মাত্র পাঁচজন মন্ত্রীর কাঁধে রয়েছে গোটা রাজ্যের বিশাল প্রশাসনিক ভার। দিলীপ ঘোষ সামলাচ্ছেন পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন; অগ্নিমিত্র পালের অধীনে রয়েছে নারী ও শিশু কল্যাণ এবং নগরোন্নয়ন; নিশীথ প্রামাণিক দেখছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও ক্রীড়া; অশোক কীর্তনিয়াকে দেওয়া হয়েছে খাদ্য এবং ক্ষুদিরাম টুডু দেখছেন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তর। মাত্র কয়েকজন মন্ত্রীর হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থাকায় এতদিন প্রশাসনিক গতি কিছুটা শ্লথ ছিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আজকের এই সম্প্রসারণের ফলে একদিকে যেমন প্রতিটি দপ্তর সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব পাবে, তেমনই বর্তমান মন্ত্রীদের দপ্তরগুলিতেও কিছু রদবদল হতে পারে। সব মিলিয়ে এই রদবদল ও সম্প্রসারণের হাত ধরে রাজ্যে সরকারি কাজে আরও গতি আসবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
