দক্ষিণ দুয়ারে ধাক্কা, বিজেপি ছেড়ে তামিলভূমে নয়া দল গঠনের পথে আন্নামলাই? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনে পূর্বে সাফল্য এলেও দক্ষিণের রাজ্যে সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে বিরোধীদের বিজয় ঝড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে পদ্মবাহিনী। আর এই চূড়ান্ত ব্যর্থতার জেরেই এবার দল ছাড়ার পথে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি আন্নামলাই। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে যে, বিজেপি ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি আঞ্চলিক দল গঠন করতে পারেন তিনি। জল্পনা সত্যি হলে তা যে দক্ষিণের রাজনীতিতে বিজেপির জন্য বিরাট ধাক্কা হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও এই সংবেদনশীল ইস্যুতে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি আন্নামলাই বা শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব।
দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ও পদচ্যুতি
নির্বাচনের আগে থেকেই দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আন্নামলাইয়ের ঠোকাঠুকি চলছিল। সিবিএসই-র শিক্ষানীতিতে তিন ভাষা বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপক বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছিল এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে। শুধু তাই নয়, তামিলনাড়ুর নির্বাচনে এআইডিএমকে-র সঙ্গে বিজেপির জোটের বিরোধিতাতেও সরব হন তিনি। এই ক্রমাগত মতপার্থক্যের পরিস্থিতিতে সম্প্রতি তাঁকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নাইনার নাগেন্দ্রনকে সেই পদে বসায় দল। এমনকী সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিটও দেয়নি। আন্নামলাই নিজে দাবি করেছিলেন যে তিনি নিজেই ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে গত কয়েক মাসে একাধিক বিষয়ে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে।
নয়া দলের জল্পনা ও বিজেপির ড্যামেজ কন্ট্রোল
বর্তমানে আন্নামলাইয়ের বিজেপি ছেড়ে নয়া দল গঠনের চিন্তাভাবনার খবরে উত্তাল তামিলনাড়ুর রাজনীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সমর্থকরা ইতিমধ্যেই এই জল্পনায় ব্যাপক ইন্ধন দিতে শুরু করেছেন। বহু সমর্থক সামাজিক মাধ্যমে আন্নামলাইয়ের সম্ভাব্য নতুন দলের নাম ও প্রতীক পর্যন্ত সামনে এনেছেন। এই সম্ভাব্য ভাঙন রুখতে এবং অভিমানী আন্নামলাইকে বাগে আনতে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও খবর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, তাঁকে শান্ত করতে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ পদ বা কেন্দ্রীয় স্তরে কোনও বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তামিলনাড়ুতে বিজেপির হাল ধরলেও দ্রাবিড়ভূমে গেরুয়া শিবিরের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারেননি আন্নামলাই, আর সেই ক্ষোভ ও অভিমানই এখন তাঁকে দলত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
