বাবা ও ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন, মন ছুঁয়ে গেল সঞ্জয় মিশ্র এবং ঋত্বিকের ‘ফেরা’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যবিত্ত জীবনের চিরন্তন জেনারেশন গ্যাপ এবং পারিবারিক অন্তর্দ্বন্দ্বের এক বাস্তব রূপক ফুটে উঠেছে পৃথা চক্রবর্তীর নতুন ছবি ‘ফেরা’-তে। মানুষের স্নেহ, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রয়োজনীয়তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এই ছবির গল্প। ঝাড়গ্রামের কালিন্দিপুরের ফুটবল কোচ পান্নালাল (সঞ্জয় মিশ্র) এবং কলকাতায় কর্মরত তাঁর ছেলে পলাশের (ঋত্বিক চক্রবর্তী) সম্পর্কের জটিল রসায়নই মূলত এই ছবির মূল ভিত্তি।
দুই প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ও সম্পর্কের রসায়ন
নব্বইয়ের দশকের চেনা ‘জেনারেশন গ্যাপ’ বর্তমান সময়ে এসে আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে। বয়স্ক প্রজন্ম যেখানে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও নিজস্ব মূল্যবোধ ও সন্তানকে আঁকড়ে বাঁচতে চায়, সেখানে তরুণ প্রজন্মের কাছে পেশাদারিত্ব ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই দুই বিপরীত ভাবনার সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে একে অপরের গুরুত্ব অনুধাবন করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের পেছনে মূলত কাজ করেছে সহানুভূতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব।
অভিনয় ও নির্মাণ শৈলীর প্রভাব
ছবির মূল সম্পদ সঞ্জয় মিশ্র এবং ঋত্বিক চক্রবর্তীর নিখুঁত অভিনয়। কিছু জায়গায় সঞ্জয় মিশ্রের বাংলা উচ্চারণ খটকা তৈরি করলেও, তাঁর নীরব অভিব্যক্তি সেই খামতি পূরণ করে দিয়েছে। ঋত্বিক চক্রবর্তী তাঁর চরিত্রে ছিলেন বরাবরের মতোই অনবদ্য। বাড়ির মালকিনের চরিত্রে সোহিনী সরকার যথাযথ হলেও, প্রিয়াঙ্কা সরকারের চরিত্রটি চিত্রনাট্যে তেমন গুরুত্ব পায়নি। ছবির দৈর্ঘ্য কিছুটা কম হলে তা আরও বেশি জমজমাট হতে পারত। তবে রনজয় ভট্টাচার্যের সুরে ‘চলো আজ আবার’ গানটি ছবির আবহে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। সম্পর্কের জটিলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত আপনজনকে চেনার এই গল্প দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
