রক্তাক্ত খাদ্য ভবন, অফিস শুরুর মুখেই পাঁচতলা থেকে নিচে ছিটকে পড়লেন যুগ্ম সচিব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার খাদ্য ভবনে সাতসকালে এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার সাক্ষী হলেন সরকারি কর্মীরা। দফতরে কাজের সময় শুরু হতেই চারতলার সিঁড়ি থেকে আচমকা গ্রাউন্ড ফ্লোরে ছিটকে পড়লেন এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং বিভাগের যুগ্ম সচিব ইন্দ্রদেব ভট্টাচার্য। সোমবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ খাদ্য ভবনের ‘বি’ ব্লকে এই ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা দফতরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ধুলোমাখা সিঁড়ির নিচে রক্তাক্ত দেহ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নিজের চারতলার অফিস থেকে পাঁচতলায় অর্থ বিভাগের দিকে যাচ্ছিলেন যুগ্ম সচিব। ঠিক সেই সময়ই ভারসাম্য হারিয়ে সোজা একতলার গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে পড়েন তিনি। যেখানে তিনি এসে পড়েন, সেখানে দফতরের ভাঙা চেয়ার, টেবিল ও পুরোনো আসবাবপত্র ধুলোমাখা অবস্থায় জড়ো করে রাখা ছিল। প্রচণ্ড আওয়াজ শুনে উপস্থিত গাড়িচালক ও কর্মীরা ছুটে এসে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই উচ্চপদস্থ আধিকারিক। তাঁর মাথা ও মুখ ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল। সহকর্মীরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যান।
তদন্তে পুলিশ ও সায়েন্টিফিক উইং
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ডেকে পাঠানো হয় সায়েন্টিফিক উইং-এর ফটোগ্রাফারদের। প্রাথমিক তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানিয়েছে, যুগ্ম সচিবকে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে দেখা গেলেও, ঠিক যে অংশ থেকে তিনি নিচে পড়ে যান, সেই জায়গাটি সিসিটিভির নজরদারির বাইরে ছিল। ফলে এটি নেহাতই দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
অসুস্থতা নাকি পরিকাঠামোগত গাফিলতি
তদন্তকারীরা এই ঘটনার পেছনে মূলত দুটি দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রথমত, ওপরে ওঠার সময় ওই আধিকারিক আচমকা কোনো শারীরিক অসুস্থতা বোধ করেছিলেন কিনা, যার কারণে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। দ্বিতীয়ত, সিঁড়ির রেলিং বা সংলগ্ন অংশের পরিকাঠামো ঠিকঠাক ছিল কিনা। তবে সরকারি অফিসের সিঁড়িঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কেন ভাঙা আসবাবপত্র স্তূপীকৃত করে রাখা ছিল এবং সেই জায়গাটি কেন সিসিটিভির আওতাভুক্ত ছিল না, তা নিয়ে দফতরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই দুর্ঘটনার জেরে সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা ও বহুতল ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। পুলিশ আধিকারিকদের পাশাপাশি দফতরের বাকি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে। আধিকারিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর বয়ান রেকর্ড করার পরই বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
