দক্ষিণ দুয়ারে ধাক্কার পরেই কি বিজেপির সঙ্গ ছাড়ছেন আন্নামলাই, তামিলভূমে এবার নয়া আঞ্চলিক দলের আত্মপ্রকাশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না মেলায় এবং দক্ষিণের রাজনীতিতে পদ্মশিবিরের চূড়ান্ত ব্যর্থতার জেরে এবার দল ছাড়ার পথে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি আন্নামলাই। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে যে, বিজেপি ছেড়ে এবার নিজস্ব নয়া দল গঠন করতে পারেন তিনি। দীর্ঘ বেশ কিছু দিন ধরেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর নীতিগত দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল, যা সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্নামলাইয়ের মতো প্রভাবশালী নেতা দল ছাড়লে তা দ্রাবিড়ভূমে বিজেপির সংগঠন বিস্তারের চেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দূরত্বের নেপথ্যে একাধিক সংঘাত
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আন্নামলাইয়ের ঠোকাঠুকি অবশ্য নতুন নয়। সিবিএসই-র শিক্ষানীতিতে তিন ভাষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি, যা তামিলনাড়ুর আঞ্চলিক আবেগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া, নির্বাচনের আগে এআইডিএমকে-র সঙ্গে বিজেপির জোট গঠনেরও বিরোধী ছিলেন তিনি। এই টানাপোড়েনের জেরেই সম্প্রতি তাঁকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নাইনার নাগেন্দ্রনকে সেই পদে বসানো হয়। এমনকি সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তাঁকে দল টিকিটও দেয়নি, যদিও আন্নামলাই দাবি করেছিলেন যে তিনি নিজেই ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলালেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোয়েম্বাটুর আসনে এক লক্ষেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন আন্নামলাই, যা দলের ভেতরে তাঁর অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করে দেয়।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা
আন্নামলাইয়ের দলত্যাগের এই জল্পনা সত্য হলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সমর্থকেরা সম্ভাব্য নতুন দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন, যা এই জল্পনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন তামিলনাড়ুতে বিজেপির বাঙালি ও অবাঙালি ভোটারদের সমন্বয়ের চেষ্টা ব্যাহত হবে, তেমনই গেরুয়া শিবিরের ভোটব্যাঙ্কেও ভাঙন ধরতে পারে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টাও শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, অভিমানী এই নেতাকে শান্ত করতে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে কোনো বড় পদের টোপ দেওয়া হতে পারে। তবে এই সমগ্র বিষয়ে আন্নামলাই বা বিজেপি নেতৃত্ব এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
