ভবানীপুরে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণে উপচে পড়া ভিড়, দলীয় রাজনীতি ভুলে মানুষের পাশে তৃণমূল কাউন্সিলর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ক্ষমতাবদলের পর মহিলাদের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে শুভেন্দু প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি মেনে অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে অফলাইনে ফর্মপূরণের প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর সোমবার থেকে অনলাইনেও এই যোজনার ফর্ম ডাউনলোডের সুবিধা মিলছে। নতুন এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে রাজ্যজুড়ে মহিলাদের মধ্যে তুমুল উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
তৃণমূল কাউন্সিলরের অফিসে সরকারি ফর্মপূরণ
ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্রটি রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর নিজস্ব অফিসে সোমবার এই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপের বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়। কাউন্সিলরের নিজস্ব তদারকিতেই সকাল থেকে এলাকার বহু মহিলা সেখানে এসে লাইনে দাঁড়ান এবং ফর্ম পূরণ করে জমা দেন। বিরোধী দলের কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে বর্তমান সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের ফর্মপূরণ করানোর এই উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক সৌজন্য বনাম জনকল্যাণ
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে বিজেপি তাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শুভেন্দু প্রশাসন এখন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মাধ্যমে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। একজন তৃণমূল কাউন্সিলর হয়ে বর্তমান সরকারের প্রকল্পের ফর্মপূরণ করানো নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও অসীম বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জনসাধারণের কাজ করার ক্ষেত্রে কে কী বলল তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। পৌরসভার মাধ্যমে মানুষের দুয়ারে ফর্ম পৌঁছে দেওয়া এবং বৃহত্তর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকেই তিনি নিজের প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করছেন।
এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মহিলারা কোনো রাজনৈতিক জটিলতা ছাড়াই সহজে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনই গ্রাসরুট স্তরে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণমূলক কাজ করার একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের এই তৎপরতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার কারণে আগামী দিনগুলোতে অন্নপূর্ণা যোজনার বাস্তবায়ন আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
