আজকের আকাশে বিরল মহাজাগতিক যুগলবন্দি, দেখা মিলবে ‘ব্লু মুন’ ও ‘মাইক্রোমুন’! – এবেলা

আজকের আকাশে বিরল মহাজাগতিক যুগলবন্দি, দেখা মিলবে ‘ব্লু মুন’ ও ‘মাইক্রোমুন’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আজ, ৩১ মে এক বিরল রবিবারের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ববাসী। রাতে আকাশের বুকে দেখা দিতে চলেছে এক অত্যন্ত বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য— ‘ব্লু মুন’ বা নীল চাঁদ। তবে শুধু ব্লু মুনই নয়, একই সাথে আজ আকাশে দেখা দেবে ‘মাইক্রোমুন’-ও। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং বছরের অন্যতম সেরা এক মহাজাগতিক বিস্ময়। সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল থাকলেও চাঁদটি কিন্তু আক্ষরিক অর্থে পুরোপুরি নীল রঙের হবে না, বরং এর পেছনে রয়েছে এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক হিসাব।

কী এই ব্লু মুন ও কেন এই নামকরণ

ইংরেজিতে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে, “ওয়ান্স ইন অ্যা ব্লু মুন”— যার অর্থ হলো অত্যন্ত বিরল কোনো ঘটনা। মূলত সেই ধারণা থেকেই এই নামকরণ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)-র সংজ্ঞা অনুযায়ী, চাঁদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে বা একটি চান্দ্র মাস সম্পন্ন করতে সাধারণত ২৯.৫ দিন সময় লাগে। কোনো ইংরেজি ক্যালেন্ডার মাসের শুরুর দিকে অর্থাৎ ১ বা ২ তারিখে যদি প্রথম পূর্ণিমা হয়, তবে সেই মাসের শেষ দিকে (৩০ বা ৩১ তারিখে) আরও একটি পূর্ণিমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই ক্যালেন্ডার মাসে যখন দুটি পূর্ণিমা দেখা যায়, তখন দ্বিতীয় পূর্ণিমার চাঁদটিকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘ব্লু মুন’ বলা হয়। চলতি মে মাসের ক্ষেত্রেও ঠিক এই নিয়মটিই খেটে গেছে।

কখন ও কোথা থেকে দেখা যাবে এই বিরল দৃশ্য

আজকের এই ব্লু মুন বিশ্বজুড়েই দৃশ্যমান হবে। নাসা জানিয়েছে, আমেরিকায় সূর্যোদয়ের ঠিক আগে অর্থাৎ স্থানীয় সময় সকাল ৪টে ৪৫ মিনিটে এই চাঁদ সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় পৌঁছাবে। এশিয়া মহাদেশের ভারতসহ বাংলাদেশ, নেপাল ও অন্যান্য দেশ থেকেও এই বিরল চাঁদ দেখা যাবে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের আকাশেও এই দৃশ্য পরিষ্কারভাবে ধরা দেবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা বা ধোঁয়ার উপস্থিতির কারণে অনেক সময় লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাধা পায়, যার ফলে চাঁদকে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি নীলচে বা ধূসর দেখাতে পারে।

প্রতি দুই থেকে তিন বছর পর পর সাধারণত এই ব্লু মুন দেখা যায়। আজকের পর পরবর্তী ব্লু মুনের জন্য মহাকাশপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। এরপর আবার ২০৫৩ সালে এই মহাজাগতিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *