ত্রাণ চুরির অভিযোগে উত্তাল মথুরাপুর, তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের অফিসে ভাঙচুর ক্ষুব্ধ জনতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সরকারি ত্রাণ সামগ্রী চুরি করে দলীয় কার্যালয়ে মজুত রাখার অভিযোগে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকা। মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের অফিসে রবিবার সন্ধ্যায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মথুরাপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
জনতার ক্ষোভ ও ত্রাণ উদ্ধার
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার দুর্গত মানুষদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে তা সাংসদের কার্যালয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মানুষজন সাংসদের কার্যালয়ে চড়াও হন। উত্তেজিত জনতা সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ত্রিপলসহ বিভিন্ন ধরণের সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন উদ্ধার করে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে কার্যালয়ের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় জনতা। দুর্গতদের হক এভাবে আটকে রাখার কারণেই এই জনরোষ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রভাব
সাংসদ বাপি হালদার অবশ্য তাঁর কার্যালয়ে ত্রাণ মজুত রাখার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা। বিজেপির পতাকা হাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে সেখানে উপস্থিত চার-পাঁচজন তৃণমূল কর্মীকে মারধর করেছে এবং ভাঙচুর চালিয়েছে। এই ঘটনার পেছনে বিজেপির মদত রয়েছে বলে দাবি করে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।
এই ঘটনার ফলে মথুরাপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারি ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল জারি রাখা হয়েছে।
