দিল্লির মালব্যনগরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, ৬ ঘরের অনুমতি নিয়ে চলছিল ২৫টি বেআইনি রুম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লির মালব্যনগরের একটি হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি নাগরিক। মৃত বিদেশিদের মধ্যে নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অনেকেই এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে হোটেলের মালিক লোকেশ বাজাজ পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হোটেলটিতে মাত্র ছয়টি রুমের অনুমতি ছিল, কিন্তু আইন অমান্য করে সেখানে ২৫টি রুম চালানো হচ্ছিল। এমনকি বেসমেন্টেও বেআইনিভাবে রুম তৈরি করা হয়েছিল, যেখান থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়।
আইন লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান জানিয়েছেন, হোটেলটির কোনো ফায়ার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি ছিল না। ভবনটির পরিকাঠামো এতটাই ত্রুটিপূর্ণ ছিল যে সেটি বর্তমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ফায়ার এনওসি পাওয়ার যোগ্যই নয়। সম্পূর্ণ হোটেলটিতে প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য মাত্র একটি পথ ছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। হোটেলের রাঁধুনি কেসর সিংহের বয়ান অনুযায়ী, সকাল ৮টায় রান্নাঘরের বৈদ্যুতিক স্টোভের সুইচ অন করার সাথে সাথেই শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে দুই মহিলাকে ওপর থেকে নিচে ঝাঁপ দিতেও দেখা গেছে।
ভয়াবহ প্রভাব ও প্রশাসনিক উদ্বেগ
এই ঘটনার ফলে দিল্লির হোটেল ব্যবসায়িক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, ওই এলাকার আরও বেশ কিছু হোটেলে এই ধরনের ফায়ার এনওসি নেই। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন কীভাবে কোনো বৈধ ছাড়পত্র ছাড়া এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করে এত বড় একটি বহুতলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। প্রশাসনের এই উদাসীনতা ও মালিকপক্ষের লোভের কারণে ২১টি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্তরেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
