কলকাতার জলপথে বিপ্লব, ১৮তম শহর হিসেবে চালু হচ্ছে ওয়াটার মেট্রো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার গণপরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। কোচি বা মুম্বইয়ের পর এবার কলকাতাতেও দ্রুত গতিতে ছুটবে আধুনিক ওয়াটার মেট্রো। নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মেগা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়েছে। ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের ১৭টি নদীপথ ও উপকূলবর্তী শহরের পর ১৮তম শহর হিসেবে এই তালিকায় নাম জুড়ল কলকাতার।
সাগরমালা প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ
বিগত সরকারের উদাসীনতায় রাজ্য সাগরমালার প্রথম দফার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও, বর্তমান সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সাগরমালা-২ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল উন্নয়নমূলক প্রস্তাবনা তৈরি করছে রাজ্য সরকার। এই বিপুল অর্থ মূলত বন্দর সংযুক্তিকরণ, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল এবং মৎস্যজীবীদের পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। কাকদ্বীপ, নামখানা, খেজুরি থেকে শুরু করে ওড়িশা সীমান্তবর্তী উদয়পুর পর্যন্ত উপকূলবর্তী মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পে।
পরিবহন পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ
কলকাতার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে আন্ডার টানেল বা পাতাল সুড়ঙ্গ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট ও কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে। পাশাপাশি জলপথকে আরও সুরক্ষিত ও আধুনিক করতে ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৪১টির ছাড়পত্র ইতিমধ্যেই মিলেছে। সুন্দরবনের ঝড়খালি, হিঙ্গলগঞ্জ, বকখালি, সন্দেশখালি ও বাসন্তীর মতো প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি গঙ্গাসাগরের কপিল মুনির মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিং বা পলি তোলার কাজও দ্রুত শুরু হতে চলেছে।
