মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে বসতে চান ট্রাম্প, নতুন সমীকরণের আভাস হোয়াইট হাউসে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কে এক নতুন নাটকীয় মোড় আসার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সম্ভাব্য বৈঠকের আবহ তৈরি হচ্ছে হোয়াইট হাউসে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আমেরিকা নিজের জয় নিশ্চিত করতে যেকোনো পথ বেছে নিতে প্রস্তুত।
সামরিক শক্তি প্রদর্শন কিংবা কূটনৈতিক সমঝোতা—উভয় পথই খোলা রাখার বার্তা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চাপ বজায় রাখলেও আলোচনার দরজা এখনই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।
নেপথ্যের কারণ ও নতুন কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আকস্মিক নরম-গরম অবস্থানের পেছনে রয়েছে ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী কৌশল। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এড়াতে একটি সুবিধাজনক চুক্তি কার্যকর করা। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, কেবল নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক হুমকি দিয়ে ইরানকে পুরোপুরি কাবু করা সম্ভব নয়। তাই সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে তেহরানকে একটি নতুন ও কঠোরতর চুক্তিতে বাধ্য করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই সম্ভাব্য বৈঠক বা নতুন চুক্তির বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যদি সত্যিই কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা বহুলাংশে কমিয়ে আনবে। তবে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অথচ কূটনৈতিক মনোভাব যদি ইরান প্রত্যাখ্যান করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমেরিকার এই নতুন চালের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই কী পদক্ষেপ নেন, এখন বিশ্বরাজনীতিতে সেটিই বড় দেখার বিষয়।
