নেতাজির স্বপ্নপূরণ অধরাই রইল, মেয়াদ শেষের সাত মাস আগেই ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে আকস্মিক ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়ে তিনি পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদ ছাড়ার পর এক আবেগঘন সাংবাদিক সম্মেলনে ফিরহাদ জানান, ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে চেয়ার আঁকড়ে থাকা সম্ভব নয়। তবে আম্ফান ও কোভিড মহামারীর মতো চরম সংকটকালে দাপটের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নাগরিকদের সমস্যা সমাধানে তাঁর চালু করা ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচির সাফল্যের খতিয়ানও তিনি তুলে ধরেন।
অধরা স্বপ্ন ও জলযন্ত্রণা
পদত্যাগের মুহূর্তে ফিরহাদ হাকিমের কণ্ঠে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে ঝরে পড়েছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়ার জল জমার সমস্যা মেটাতে না পারা। তিনি উল্লেখ করেন, স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যখন কলকাতার মেয়র ছিলেন, তখন গামবুট পরে ঠনঠনিয়ার জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। নেতাজির স্বপ্ন ছিল এই দীর্ঘস্থায়ী জলযন্ত্রণা থেকে শহরবাসীকে মুক্তি দেওয়া। ফিরহাদ সেই স্বপ্নপূরণে ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিলেও, তা সম্পূর্ণ উদ্বোধন করে যেতে পারলেন না।
পদত্যাগের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
সাবেক মেয়রদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট করেন, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষচন্দ্র বসু বা বিধানচন্দ্র রায়ের মতো মনীষীদের স্মৃতিবিজড়িত এই মর্যাদাপূর্ণ চেয়ারের অবমাননা তিনি করতে চাননি। তাঁর স্পষ্টোক্তি, বর্তমানে ঢাল-তলোয়ারহীন ‘নিধিরাম সর্দার’ হয়ে কাজ করার চেয়ে সসম্মানে সরে যাওয়াই শ্রেয়। যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক বা বাহ্যিক চাপের কথা অস্বীকার করেছেন, তবুও তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ধারাবাহিকতায় বড়সড় ধাক্কা দিল। মেয়রের এই আকস্মিক প্রস্থানের পর শহরের বেআইনি নির্মাণ রোধ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসাম্পূর্ণ কাজগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং পুরসভার আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে।
