”স্বরূপ বিশ্বাসকে আটকানো যেত না”! বিস্ফোরক দেব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধ সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুলিশি হেফাজতে গিয়েছেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তোলাবাজি, যৌন হেনস্তা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে থাকা এই প্রভাবশালী নেতার পতনকে টলিপাড়ার অনেকেই ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন। ক্ষমতার অলিন্দে থেকে যেভাবে বছরের পর বছর শিল্পী ও কলাকুশলীদের কোণঠাসা করা হয়েছিল, স্বরূপের গ্রেপ্তারের পর সেই জমে থাকা ক্ষোভ এখন টলিউডে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
সিস্টেমের বিরুদ্ধে দেবের বিস্ফোরক লড়াই
তৃণমূলের তারকা সাংসদ এবং সুপারস্টার দেব বরাবরই টলিউডের এই সিন্ডিকেট রাজ ও নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারের পর দেবের মন্তব্য, “সব কর্মফল! ওঁর যখন ভালো সময় ছিল, তখন বাকি সকলের খারাপ সময় এনে দিয়েছিলেন।” শাসকদলের অন্দরে থেকেও দেবকে এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে একাধিকবার মাশুল গুনতে হয়েছে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের তারকাদের নিজের ছবিতে কাস্ট করার কারণে দেবের ছবি নন্দনে প্রদর্শিত হতে দেওয়া হয়নি এবং ছবি মুক্তি আটকে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি স্ক্রিনিং কমিটিতে ভোট না দেওয়ার অপরাধে দেবের বিরুদ্ধে লালবাজারে অভিযোগ পর্যন্ত জানানো হয়েছিল।
পতনের কারণ ও ইন্ডাস্ট্রিতে সম্ভাব্য প্রভাব
স্বরূপ বিশ্বাসের এই পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বৈরাচারী কায়দায় স্টুডিও পাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের জোরপূর্বক কাজ কেড়ে নেওয়া। দেবের মতে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় এলে স্বরূপ বিশ্বাসকে আটকানো আসাম্ভব হয়ে পড়ত এবং তিনি নিজেও হয়তো টলিউডে নিষিদ্ধ হয়ে যেতেন।
এই গ্রেপ্তারের ফলে টলিপাড়ায় দীর্ঘদিনের ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর দৌরাত্ম্য বন্ধ হওয়ায় সাধারণ কলাকুশলী থেকে শুরু করে স্বাধীন পরিচালকেরা এখন মুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযেোগ পাবেন। একইসঙ্গে এই ঘটনা বিনোদন জগতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
