কাটমানির বিরুদ্ধে জনতার গর্জন! দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাকে জুতোর মালা পরিয়ে ‘শাস্তি’ গ্রামবাসীর”

নিজস্ব প্রতিবেদন, শ্যামপুর: দুর্নীতির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জনরোষের সাক্ষী থাকল হাওড়ার শ্যামপুর। ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সন্ন্যাসী মান্নাকে জনসমক্ষে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। রবিবার সকালে তাঁকে অর্ধনগ্ন করে, মাথা মুড়িয়ে ও জুতোর মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড়:
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সন্ন্যাসী মান্না দাপুটে নেতা হওয়ার সুযোগ নিয়ে সরকারি প্রকল্পে অবাধে কাটমানি আদায় করতেন। রবিবার সকালে এই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। গ্রামবাসীরা জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন। গ্রামবাসীদের দাবি, তল্লাশির সময় তাঁর ঘর থেকে বহু মানুষের জব কার্ড, [আধার কার্ড রেড্যাক্টেড] এবং একাধিক ব্যাংকের পাস বই উদ্ধার হয়েছে। এই নথি প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যা ঘটেছিল সকালে:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উত্তেজনা চরমে। উত্তেজিত জনতা ওই নেতাকে কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে জুতোর মালা পরিয়ে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় ঘোরাচ্ছেন। জনরোষের সামনে পড়ে ওই নেতা নিজের দোষ স্বীকার করে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিলেও, জনতার ক্ষোভ ছিল চোখে পড়ার মতো।
পুলিশি ভূমিকা ও প্রশাসনিক তৎপরতা:
ঘটনাটি জানাজানি হতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নেতাকে উদ্ধার করে এবং আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আপাতত এলাকায় যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে দায়সারা বিতর্কের পালা। বিরোধী শিবিরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কাটমানি রাজের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণই ঘটেছে। অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তে ঠিক কী কী তথ্য উঠে আসে এবং এই বিপুল সরকারি নথি ওই নেতার বাড়িতে কেন ছিল, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
