রেশন ব্যবস্থায় চরম দুর্নীতি! হুগলিতে চাল পাচার, গমের বস্তায় মিলল সিমেন্ট-বালি

নিজস্ব প্রতিবেদন: রেশনের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। শনিবার একই দিনে হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনায় রেশনের সামগ্রী নিয়ে যে ঘটনা সামনে এল, তা সরকারি খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
আরামবাগে চাল পাচারের ছক:
শনিবার হুগলির আরামবাগের সালেপুর ২ নম্বর ব্লকের ডোঙ্গলের আলুপট্টি এলাকায় রেশন ডিলার নয়ন ভৌমিকের বিরুদ্ধে চাল পাচারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সরকারি রেশনের চাল গোপনে অন্যত্র সরানোর সময় বিজেপি নেতাদের তৎপরতায় একটি গাড়ি হাতেনাতে আটক করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালে আরামবাগ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও অভিযুক্ত ডিলারের পরিবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গমের বস্তায় সিমেন্ট ও পাথরের মিশ্রণ:
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার চালকিবাজার এলাকায় রেশন নিতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হন উপভোক্তারা। ডিলারের দেওয়া গমের বস্তা খুলতেই গ্রাহকদের চোখ চড়কগাছ। গমের বদলে তাতে বালু, পাথরের টুকরো ও সিমেন্টের গুঁড়োর মিশ্রণ পাওয়া যায়। নিম্নমানের এই খাদ্যসামগ্রী নিতে অস্বীকার করলে ডিলারের কর্মীদের সঙ্গে গ্রাহকদের বচসা শুরু হয়। ডিলার প্রদীপকুমার দত্তের সাফাই, কল্যাণী থেকে আসা বস্তায় কী রয়েছে, তা তাঁর জানা ছিল না। খবর পেয়ে গোপালনগর থানা ও খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসে গমের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ:
বারবার এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি সরবরাহ চেইন ও সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থার বড়সড় ফাঁকফোকরকেই স্পষ্ট করছে। খাদ্য শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে কঠোর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষ যে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, তা আরও একবার প্রমাণিত। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই দুর্নীতির জাল ছিঁড়তে ঠিক কী পদক্ষেপ নেয়।
