সমুদ্র সৈকতে রক্তগঙ্গা: ফারো দ্বীপপুঞ্জে ৭০০ ডলফিন ও তিমি হত্যা, আইনি সুরক্ষাও বাতিল!

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রকৃতির বুকে এক চরম নৃশংসতার সাক্ষী থাকল ফারো দ্বীপপুঞ্জ। মাত্র একদিনের ব্যবধানে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে প্রায় ৭০০টি ডলফিন ও পাইলট হোয়েল। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, সামুদ্রিক প্রাণীদের ওপর এই অমানবিক হত্যাকাণ্ড সভ্য সমাজের কলঙ্ক।
নির্মম শিকার ও রক্তক্ষয়ী সমুদ্র:
পরিবেশ ও সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা ‘ওশেনকেয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭শে মে তিনটি ভিন্ন অভিযানে এই বিপুল সংখ্যক প্রাণীকে হত্যা করা হয়। শুধু রাজধানী তোরশভনের সান্দাগের্ধি উপসাগরেই প্রায় ৪০২টি পাইলট হোয়েলকে তটে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাকি প্রাণীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে স্ক্যালাফিজির ও স্ট্রেমনসি এলাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলট হোয়েলরা ডলফিন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং সংবেদনশীল প্রাণী। এই হত্যাকাণ্ডের সময় অসহায় প্রাণীগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণার মধ্যে ছটফট করতে দেখা গেছে, যা প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে।
আইন বদলে নিষ্ঠুরতার বৈধতা:
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, এই ব্যাপক গণহত্যার ঠিক আগের দিন ফারো দ্বীপপুঞ্জের পার্লামেন্টে একটি ভোটাভুটি হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ডলফিন ও তিমি শিকারের ক্ষেত্রে দেশের ‘পশুকল্যাণ আইন’ আর কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, শিকারিরা এখন পশুকল্যাণ আইন লঙ্ঘনের কোনো ভয় ছাড়াই এই নিষ্ঠুরতা চালানোর আইনি ছাড়পত্র পেয়ে গেছে।
তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়:
এই ঘটনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ‘ওশেনকেয়ার’-এর বিজ্ঞান বিষয়ক পরিচালক মার্ক সিমন্ডস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “কোনো অমানবিক কাজকে আইনের বাইরে রাখলেই তা মানবিক হয়ে যায় না।” ফারো দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীরা আর্থিকভাবে যথেষ্ট সমৃদ্ধ এবং খাবারের জন্য এই প্রাণীদের মাংসের ওপর তারা একেবারেই নির্ভরশীল নয়। তবুও ‘ঐতিহ্য’-এর দোহাই দিয়ে এমন নৃশংসতা মেনে নেওয়া যায় না।
পরিবেশবাদী সংস্থাগুলি অবিলম্বে এই বিতর্কিত ‘কালো আইন’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। আইন পরিবর্তন করে সামুদ্রিক প্রাণীদের সুরক্ষাকে বিসর্জন দেওয়ায় ফারো দ্বীপপুঞ্জ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে পরিবেশপ্রেমীরা তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
